পাহাড়ে বসবাসকারী ৮৩৫টি পরিবারকে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত

পাহাড়ে বসবাসকারী ৮৩৫টি পরিবার
ছবি : সারাবাংলা

চট্টগ্রাম মেইল : চট্টগ্রামের ১৭টি পাহাড়ে ঝুঁকির মধ্যে বসবাসকারী ৮৩৫টি পরিবারকে আগামী ১৫ মে এর মধ্যে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি। আজ মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) কমিটির ১৯তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

দুপুরে নগরীর সার্কিট হাউজে বিভাগীয় কমিশনার ও পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় ৩০ এপ্রিল এর মধ্যে ১০টি ব্যক্তি ও ৭টি সরকারি মালিকানাধীন পাহাড়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং পানিসহ সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং ১৫ মে এর মধ্যে সব ধরণের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করা ৮৩৫টি পরিবারবারকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কমিটির সদস্যরা।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক দীপক চক্রবর্তীর। সভায় প্রধান অতিথি চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান বলেন, একজন মানুষ যাতে মাটি চাপা না পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যদি কোন দুর্বৃত্ত পাহাড়ে বসবাসকারীদের প্ররোচনা দেয়, তাদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের ধরে আইনের আওতায় আনতে হবে।

বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান আরও বলেন, একমাসের শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধ পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের একটা পূর্ণাঙ্গ সমাধানে আসতে হবে।

তিনি বলেন, উচ্ছেদে যাকে ধরা হবে তাকে তার নিজ এলাকায় পাঠিয়ে দিতে হবে। যাতে পুনরায় এখানে আসার সুযোগ না পায়। যাদের নিতান্তই কিছু নেই তাদেরকে পুনর্বাসনে আমি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের সঙ্গে আলাপ করেছি, তিনি এ ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন চাইলে একটা ভবন করে তাদের পুনর্বাসন করতে পারে।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি গত ২০১৮ সালের পাহাড়ধসে প্রাণহানি এবং বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সভায় সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, বিজিবির ডেপুটি রিজিওনাল কমান্ডার কর্নেল আরেফিন, চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ক্যাপ্টেন জুৃয়েল, গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল আলম বক্তব্য দেন।

রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ইশরাত রেজা বলেন, ২০১৮ সালের ১৪ অক্টোবর অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে রেলওয়ে নিয়ন্ত্রণাধীন কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট পাহাড়ে ১ শিশুসহ ৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ পাহাড়ে উচ্ছেদে গেলে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। আমরা উচ্ছেদ করলেও পরে দেখা যায় পুনরায় দখল হয়ে যায়।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) নুরুল আমিন বলেন, ওখানে রেলওয়ের লোকজন জড়িত রয়েছে, আগে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হলে এমনিতেই উচ্ছেদ হয়ে যাবে।

২০০৭ সালে রেলওয়ে, ক্যান্টনমেন্ট, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন পাহাড় মিলিয়ে ৩০টি পাহাড় নির্ধারণ করা হলেও ২০১৫ সালে ইস্পাহানি পাহাড় ও জেমস পাহাড়কে বাদ দিয়ে ২৮টি পাহাড়ের তালিকা করা হয়। বর্তমানে নগর ও নগরের বাইরে ১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় রয়েছে। যারমধ্যে ১০টা বেসরকারি ৭টা সরকারি। এতে ৮৩৫টি পরিবার রয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার পরিচালক দীপক চক্রবর্তী বলেন, সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৫ মে’র মধ্যে সকল পাহাড়ে অবৈধ দখলদারকে সরিয়ে ফেলে খালি করতে হবে। অন্যথায় সংস্থার প্রধানকে দায়ী করা হবে। যেসব সংস্থার ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছে তারা স্ব উদ্যোগে সরিয়ে নেবে আর যাদের নেই তারা জেলা প্রশাসনের সহায়তা নেবে।

বিএম/রাজীব..