ম্যনসিটির কাছে হেরেও চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেমিতে টটেনহ্যাম

ক্রীড়া ডেস্ক : উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের কোয়ার্টার ফাইনালে টটেনহ্যামকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। যদিও এই জয়ের পরও এওয়ে গোলে পিছিয়ে থাকার দরুন বিদায় নিতে হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটিকে।

অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ দেখলো ইতিহাদ স্টেডিয়াম। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটের ম্যাচের প্রথম লেগে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল টটেনহাম। ফিরতি লেগে যেন পালা করে একে অন্যকে গোল বন্যায় ভাসানোর খেলা খেললো দুই দল। তাতে দুই লেগ মিলে ৪-৪ গোলে ড্র করেও অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা নিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখলো স্পাররা।

ম্যাচের শুরুতেই কেভিন ডি ব্রুইনের পাস থেকে জায়গা বানিয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন স্টার্লিং। দুই লীগ মিলিয়ে ম্যাচে সমতা ফেরে ১-১ গোলে।

৭ মিনিটে সন হিউন মিন গোল করলে ম্যাচে সমতা ফেরায় টটেনহ্যাম।

দশম মিনিটে আবারও গোল করে স্বাগতিক সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেন সন। ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের পাস ডি-বক্সে পেয়ে ডান পায়ের উঁচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।

পরের মিনিটে সৌভাগ্যসূচক গোলে ম্যাচে সমতায় ফেরে সিটি। কাছ থেকে বের্নার্দো সিলভার নেওয়া শট ঠেকাতে একটু আগেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন উগো লরিস, বল ডিফেন্ডার ড্যানি রোজের পায়ে লেগে দিক পাল্টে গড়াতে গড়াতে গোললাইন পেরিয়ে যায়।

২১তম মিনিটে ডি ব্রুইনে ও স্টার্লিংয়ের দারুণ বোঝাপড়ায় আবারও এগিয়ে যায় সিটি। ডান দিক থেকে বেলজিয়ান মিডফিল্ডারের দূরের পোস্টে বাড়ানো দুর্দান্ত এক ক্রস পেয়ে কোনাকুনি শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ছন্দে থাকা ইংলিশ মিডফিল্ডার। ৩-২ গোলে এগিয়ে যায় সিটি, দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইন ৩-৩। তবে মূল্যবান অ্যাওয়ে গোলে এগিয়ে থাকে অতিথিরা।

বিরতির পর প্রতিপক্ষের রক্ষণে প্রচণ্ড চাপ বাড়ানো সিটি ৫৯তম মিনিটে আগুয়েরোর নৈপুণ্যে ব্যবধান বাড়ায়। ডি ব্রুইনের রক্ষণচেরা পাস ডি-বক্সে ডান দিকে পেয়ে জোরালো কোনাকুনি শটে দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইন ৪-৩ করেন আর্জেন্টাইন তারকা। সিটির আকাশে উঁকি দেয় সেমি-ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন।

৭৩তম মিনিটে সেটপিস থেকে ম্যাচে সমতা টানে টটেনহ্যাম। ট্রিপিয়ারের কর্নারে উড়ে আসা বল ছোট ডি-বক্সে স্পেনের ফের্নান্দো লরেন্তের ঊরুতে লেগে জালে জড়ায়। বল তার হাতে লেগেছিল কি-না, ভিএআর দেখে গোলের বাঁশি বাজান রেফারি। দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইনে সমতা ফেরে; কিন্তু অ্যাওয়ে গোলের হিসেবে ফের এগিয়ে যায় টটেনহ্যাম।

যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে স্টার্লিং জালে বল পাঠালে উচ্ছ্বাসে মাতে স্বাগতিক সমর্থকরা। কিন্ত অফসাইডের কারনে বাতিল হয় গোলটি।

হেরেও সেমি ফাইনালে উঠে যায় টটেনহ্যাম। সেমিতে তাদের প্রতিপক্ষ আয়াক্স।

এই ম্যাচে একটা রেকর্ডও হয়েছে। ম্যাচের প্রথম ২১ মিনিটেই ৫ গোল হয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে এত কম সময়ে ৫ গোল অতীতে কখনও হয়নি।

বিএম/রনী/রাজীব