নুসরাত হত্যায় কাদেরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, তার রুমেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়

বিএম ডেস্ক : ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আবদুল কাদের বিচারিক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালতে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

এদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল এসপি মো. ইকবাল সংবাদ মাধ্যমকে স্বীকারোক্তির তথ্য নিশ্চিত করেন।

এসপি ইকবাল জানান, মাদ্রাসা শিক্ষক আবদুল কাদের আদালতের কাছে স্বীকার করেছেন, ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তিনি। ঘটনার দিন তিনি হত্যাকারীদের নিরাপত্তায় মাদ্রাসার গেট পাহারায় ছিলেন। পরিকল্পনাকারীদের মধ্যেও অন্যতম ছিলেন কাদের। জানিয়েছেন নিজের সক্রিয় অংশ গ্রহণের কথা। তার রুমেই হয়েছে হত্যার পরিককল্পনা।

এর আগে আটককৃত এ মামলার অন্যতম আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম এবং শরীফের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে বুধবার সকালে ঢাকার হোসনী দালান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

উল্লেখ, গত ৬ এপ্রিল নুসরাত মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারীরা।

এর আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয়া তারা। পরে আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাত মারা যান।

বিএম/রনী/রাজীব