বগুড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী স্বর্গের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

বিএম ডেস্ক : বগুড়ায় দুই দল সন্ত্রাসীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ সন্ত্রাসী রাফিদ আনাম ওরফে স্বর্গ (২২) নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বগুড়া শহরের উপশহর-ধরমপুর সংযোগকারী ধুন্দল ব্রিজের দক্ষিণ পশ্চিম পার্শ্বে সুবিল খালপাড়ে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, রাত দেড়টার দিকে উপশহর ধুন্দাল সেতুর কাছে দুই দল সন্ত্রাসীর মধ্যে গোলাগুলির খবর পেয়ে টহল পুলিশের দল সেখানে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা সেখান থেকে চলে যান।

পরে পুলিশ সেখানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেন। পাশে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, একটি গুলি ও একটি বর্মি চাকু পাওয়া যায়। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে পুলিশ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে পুলিশ নিহত ব্যক্তি সন্ত্রাসী রাফিদ আনাম স্বর্গ বলে নিশ্চিত হন। রাফিদ আনামের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অবৈধ অস্ত্র রাখা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা রয়েছে।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, পুলিশের রেকর্ডে দেখা যায়, নিহত স্বর্গের নামে সদর এবং শাজাহানপুর থানায় খুন, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে সাতটি মামলা রয়েছে। সাম্প্রতিককালে শাজাহানপুরের জামাদারপুকুর এবং শহরের খান্দার মালগ্রাম এলাকায় সে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।

উল্লেখ্য, কিশোর বয়সেই স্বর্গ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে বগুড়া শহরে পরিচিতি লাভ করে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে স্বর্গ দুইটি খুনের সাথে জড়িত হয়। এক পর্যায়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যায়। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকাকালে সেখানেই সন্ত্রাসীদের সাথে একটি গ্রুপ তৈরি করে।

গত তিনমাস আগে সরকারি দলের এক নেতার তদবিরে স্বর্গ ও লিখন নামের দুই সন্ত্রাসী জামিনে মুক্তি পায়। এরপর তারা স্বর্গের নানা বাড়ি নন্দীগ্রাম থানা এলাকায় আশ্রয় নিয়ে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।

এছাড়াও স্বর্গ জামিনে মুক্তি পেয়ে বগুড়া সদর থানার সাবেক এক ওসিকে হত্যার হুমকি দেয়। ২০০৪ সালে তার বাবা লিয়াকত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার সময় ওই ওসি বগুড়া সদর থানায় কর্মরত ছিলেন।

বিএম/রনী/রাজীব