ওসির ‘টোকেন’ ছাড়া সোনাগাজীতে চলত না অটোরিকশা

বিএম ডেস্ক : নিহত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে অন্যায়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনকে। এরপর থেকেই তার অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন সোনগাজীর সাধারণ মানুষ।

ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার জন্য ওসি নিজেই একটি সমিতি চালু করেছিলেন। এছাড়া শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ওসি নিজস্ব টোকেন বানিয়ে তাদের চলাচলের লাইসেন্স দিয়েছিলেন।

সোনাগাজী শহরে প্রায় ৪০০-৫০০ ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা চলে। প্রতিদিন প্রতিটি রিক্সা থেকে ‘সোনাগাজী রিকশা শ্রমিক ও মালিক সমিতি’র ব্যানারে দশ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হতো। যার সিংহভাগ টাকা যেতো ওসি মোয়াজ্জেমের পকেটে। এর বাইরে ভিন্ন কিছু ঘটলে থানায় এনে রিকশা আটকে রাখা হত। পৌর মেয়রের সঙ্গে এ নিয়ে ওসির মতবিরোধও হয়েছিল।

সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম

সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘ওসি দশ টাকা করে চাঁদা নেওয়ায় তার সঙ্গে আমার মতবিরোধ হয়েছে। আমি সব ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে তিনি আবারও তা চালু করেছিলেন।’

অটোরিকশা চালক মাঈনউদ্দিন ও জয়নাল আবদীন বলেন, ‘যখন মাগরিবের আজান দেয়, তখন ওসি মোয়াজ্জেমের জন্য টাকা তোলা শুরু হয়। ওসি মোয়াজ্জেম শুধু রিকশাচালক নয়, হইন্নি-পইন্নি কিছুই মানে না। সবার থেকেই টাকা খায়।’

দক্ষিণ চরচান্দিয়া গ্রামের রিকশাচালক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘নুসরাত হত্যায় বিতর্কিত ওসি মোয়াজ্জেমকে প্রত্যাহার করা হলেও এখনো প্রতিদিন ১০ টাকা করে চাঁদা দিচ্ছে। এসব চাঁদাবাজির জন্য ওসি মোয়াজ্জেমের নিজস্ব একটি টোকেনও রয়েছে। সেটি যার কাছে থাকবে তাকে প্রতিদিন ১০ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। আর যার কাছে থাকবে না তাকে রিকশা চালাতে দেওয়া হয় না।’

‘সোনাগাজী রিকশা শ্রমিক ও মালিক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক ও লাইনম্যান মো. মাসুদ বলেন, ‘অটোরিকশা থেকে যে টাকা তোলা হয় তা থানার ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে ওসির কাছে পৌঁছে যায়। আমি শুধু টাকা তুলে জমা দেই।’

‘সোনাগাজী রিকশা শ্রমিক ও মালিক সমিতি’র ক্যাশিয়ার মো. ইসমাইল হোসেন জানান, এ ঘটনা পেপার-পত্রিকায় লেখালেখি হলে আমাদের রিকশা চালানো বন্ধ করে দিবে। তখন আমরা না খেয়ে থাকতে হবে। আমরা চাঁদা দিয়ে হলেও চাই রিকশা চালু থাকুক।

তিনি আরও জানান, যিনি লাইনম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তাকে মাসে ৯ হাজার টাকা দিতে হয়। যিনি রেজিস্ট্রার লেখেন, তাকে ৬ হাজার টাকা দিতে হয়। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পায় মাসে দুই হাজার টাকা, ক্যাশিয়ার পায় এক হাজার পাঁচশ টাকা। এই কমিটির সভাপতি লিটন ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ।

সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘থানায় রিকশার চাঁদা জমা নেওয়ার জন্য কোনো ক্যাশিয়ার নেই। আগের ওসির চাঁদা তোলার বিষয়টি আমি জানি না।’

বিএম/রনী/রাজীব