বিদেশ যাওয়ার স্বপ্নে প্রতারিত দেড়শ তরুণ : ভুয়া প্রতিষ্ঠানের তিন প্রতারক গ্রেফতার

ভুয়া প্রতিষ্ঠানের তিন প্রতারক

রাজীব সেন প্রিন্স : ভুয়া নাম ও অ্যকাউন্ট ব্যবহার করে প্রায় দেড় শতাধিক তরুণের কাছ থেকে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্র। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন নামে গ্লোবাল ইমিগ্রেশন এন্ড এডুকেশন সেন্টার খুলে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব টাকা টাকা নেয় চক্রটি।

বিজ্ঞপ্তিতে মানুষকে আকৃষ্ট করে কানাডা-আমেরিকা পাঠানোর কথা বলে একটি নিদ্রিষ্ট সময় নির্ধারন করে দেয়া হয়। নিদ্রিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার কিছুদিন পূর্বে অফিস বন্ধ করে উধাও হয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটি। বন্ধ হয়ে যায় তাদের সাথে যোগাযোগের সকল মাধ্যম। স্বপ্ন ভঙ্গ হয় দেড় শতাধিক তরুণের।

ভুক্তভোগী বিভিন্ন জনের অভিযোগের ভিত্তিতে এমনি একটি প্রতারক প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পেয়ে দীর্ঘ ৪ বছর ধরে প্রতারক চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

অবশেষে ফরচুন গ্লোবাল ইমিগ্রেশন এন্ড এডুকেশন সেন্টারের সেই প্রতারকচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত তিন আসামি হলেন পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার রউফ খান হাট রঘুনাথপুর এলাকার মৃত আব্দুর রউফ খানের ছেলে অনিক ইসলাম মুন্না প্রকাশ মাসুদুজ্জামান খান মুন্না (৩৪), তার ছোট ভাই রফিকুজ্জামান খান রনি (২৭) ও বাগেরহাট জেলার কলাবাড়িয়া এলাকার খন্দকার আব্দুল মুহিতের ছেলে খন্দকার আবুল হাসান সুমন। তারা তিনজনই বর্তমানে ঢাকার ভাটারা থানার বসুন্ধরা ৭ নং রোডের আই ব্লকের ১৪১ নং বাড়ির তৃতীয় তলায় বসবাস করেন।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করার তথ্যটি নিশ্চিত করেন সিএমপির উপ পুলিশ কমিশনার (ডিবি-বন্দর) এস এম মোস্তাইন হোসেন।

তিনি বলেন, গ্রেফতার তিনজনই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। তারা তিনজন গত ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ আল মদিনা টাওয়ারে ফরচুন গ্লোবাল ইমিগ্রেশন এন্ড এডুকেশন নামক অফিস স্থাপন করে অন্তত ১ থেকে দেড় শতাধিক তরুণের সাথে প্রতারণা করে।

সংঘবদ্ধ চক্রটি আমেরিকা ও কানাডার পাঠানোর কথা বলে এসব তরুণের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৮ কোটি টাকা। একইভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া নামে প্রতিষ্ঠান খুলে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, ভুয়া পাসপোর্ট ও ভুয়া নামে ব্যাংক একাউন্ট খুলে এই কাজগুলো করে আসছিল। ফলে তাদেরকে সনাক্ত করে গ্রেফতার করতে অনেক সময় লেগেছে।

তিনি বলেন, নগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম ডবল মুরিং থানায় দায়ের করা একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে গ্রেফতার তিনজনের সম্পৃক্তা পায়। শুক্রবার রাতে ঢাকায় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সহায়তায় তিনজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় গোয়েন্দা টিম।

গ্রেফতার তিনজনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে ডবলমুরিং থানায় ১টি, চান্দগাঁও থানায় ১টি, খুলনা সদর থানায় ১টি, পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর থানায় ১টি, ঢাকা বনানী থানায় ১টি মামলা রয়েছে বলে জানান সিএমপির এ পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে তিন প্রতারককে গ্রেফতারের তথ্য জানতে পেরে ভুক্তভোগী অনেকে ছুটে আসে নগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে। জানায় তাদের সারাজীবনের জমানো অর্থ প্রতারকদের হাতে তুলে দেওয়ার গল্প। অনেক তরুনের স্বপ ভঙ্গের করুণ কাহিনীও লিপিবদ্ধ করে গোয়েন্দা টিমের সদস্যরা।

বিএম/রাজীব সেন প্রিন্স…