অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ১১.৮৭ বিলিয়ন রেমিটেন্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা

বিএম ডেস্ক : চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে প্রবাসীরা দেশে ১ হাজার ১৮৬ কোটি ৮২ লাখ (১১.৮৭ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন । যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। সেই সাথে গত তিন বছরে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ মাসে প্রবাসীরা দেশে ১ হাজার ৭৬ কোটি ১০ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন।

এদিকে প্রবাসীরা সর্বশেষ মার্চ মাসে ১৪৫ কোটি ৮০ লাখ ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন। আর গত বছরের একই সময়ে ১৩১ কোটি ৭৭ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন। সে হিসাবে গতবছরের মার্চের চেয়ে চলতি বছরের মার্চ মাসে রেমিটেন্স বেড়েছে ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

রেমিট্যান্স প্রেরণকারী প্রায় সব দেশ থেকেই প্রবাসী আয় বেড়েছে। তবে কমেছে তিনটি দেশ থেকে। এগুলো হলো—জার্মানি, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এদিকে মার্চে দেশে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে তার ৬০ শতাংশই এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশ থেকে এসেছে বাকি ৪০ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয়ের সিংহভাগ আসে ৬টি দেশ থেকে। দেশগুলো হচ্ছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, মালয়েশিয়া এবং যুক্তরাজ্য। গত অর্থবছরে (২০১৭-১৮) এসব দেশ থেকে ১ হাজার ৪৩ কোটি ডলারের রেমিটেন্স আসে। চলতি অর্থবছরের নয় মাসেও দেশগুলো থেকে প্রবাসী আয়ের একই চিত্র দেখা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য মিলেছে। গত অর্থবছরে আসা ১ হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার রেমিটেন্সের মধ্যে শীর্ষ ৩০ দেশ থেকে এসেছে ১ হাজার ৩৬১ কোটি ডলার। অন্যান্য দেশ থেকে আসে ১৩৭ কোটি ডলার। একইভাবে দেশভিত্তিকভাবে চলতি অর্থবছরের নয় মাসের চিত্রও প্রায় অভিন্ন। এ সময় ৩০ দেশ থেকে রেমিটেন্স এসেছে ১ হাজার ১৭৪ কোটি ডলার। আর অন্যান্য দেশ থেকে ১২৭ কোটি ডলার।

অর্থনীতির গবেষক ও ব্যাংকাররা মনে করছেন, টাকার বিপরীতে ডলারের তেজী ভাব এবং হুন্ডি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে চলতি অর্থবছরেও রেমিটেন্সে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে প্রতি মাসেই রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠাতে বিভিন্ন সময়ে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন তারই ফল পাওয়া যাচ্ছে।

প্রবাসীরা চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১৫৯ কোটি ডলারের রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন। এটি ছিল এক মাসের হিসেবে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে গত বছরের মে মাসে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স এসেছিল ১৫০ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

২০১৮ সালে দেশে রেমিটেন্স এসেছিল এক হাজার ৫৫৩ কোটি ৭৮ লাখ (১৫.৫৪ বিলিয়ন) ডলার। যা ২০১৭ সালের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।

রিজার্ভ ৩১.৮০ বিলিয়ন ডলার

এদিকে রেমিটেন্স বাড়ায় বাংলাদেশের বিদেশী মুদ্রার ভান্ডারও (রিজার্ভ) সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে।

সোমবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার। প্রতি মাসে ৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি খরচ হিসেবে এই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় আট মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

২০১৬ সালের পর রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের নীচে নামেনি।

বিএম/রনী/রাজীব