লাল শাড়ি,গহনা,হলুদের প্রদীপ কিনলেও প্রেমিকের প্রতারণায় আত্মহত্যা করে মেঘা

বিএম ডেস্ক : বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দুই বছরের বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক রাখলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় ঝালকাঠির সায়মা কালাম মেঘা (চাঁদনী) আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

এই ঘটনার বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার। মেঘার পরিবারের সদস্যরা যাদের দিকে আঙুল তুলছেন তাদের এলাকায় দেখা যাচ্ছে না।

লাল শাড়ি, গহনা, হলুদের প্রদীপসহ বিয়ের আনুষঙ্গিক সবই কেনা হয়েছিল মেঘার জন্য। তবে সেসব জিনিসপত্র এখন কেবলই বেদনার স্মৃতি। আর সেই স্মৃতি আঁকড়ে মা-বাবার চোখের জলে ভেসে যাচ্ছে মেঘার পরিবার। ঝালকাঠির নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের বড় মেয়ে মেঘা পড়াশুনা করতেন ঢাকার ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সমাজকল্যাণ বিভাগে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে।

তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মেঘাই ছিল পরিবারের বড় সন্তান। গত ২১ এপ্রিল বিকেলে ঢাকার কলাবাগান এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মেঘার পরিবারের অভিযোগ, ঝালকাঠি শহরের পূর্ব চাঁদকাঠি এলাকার মাহিবী হাসান নামে এক তরুণের সাথে মেঘার দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে ঝালকাঠি ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে দু’জনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়।

মেঘা ও মাহিবী

দু’জনের বিয়ের বিষয়টিও প্রায় পাকা হয়। বিয়ের শাড়ি, গহনাসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কিনে প্রস্তুতিও নিতে থাকেন মেঘা ও তার পরিবার। কিন্তু এতে মত ছিল না মাহিবীর মা সেলিনা বেগমের। মায়ের কথায় মাহিবী শেষ পর্যন্ত মেঘার সাথে সম্পর্ক ভেঙে দিয়ে এড়িয়ে চলতে থাকেন। ফলে শেষ পর্যন্ত আত্মহননের পথ বেছে নেন মেঘা।

আত্মহত্যা করার আগে মোবাইল ফোনে মেঘা তার প্রেমিক মাহিবীর কাছে লাইভে শেষবারের মতো মিনতি করেন। আর মাহিবীই মেঘার আত্মহত্যার খবরটি সর্ব প্রথম মেঘার পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে জানায় বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে।

মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে ২৩ এপ্রিল মেঘার মরদেহ ঝালকাঠিতে আনা হয়। দাফন করা হয় ঝালকাঠি পৌর গোরস্থানে।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে বিয়ের নাটক করে আইনি স্বীকৃতি না দিয়ে প্রতারণা ও আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে মাহিবী ও তার মায়ের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবিতে শোকাহত পরিবারটি সংবাদ সম্মেলন করে।

মেঘার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে মেঘার বাবা আবুল কালাম আজাদ (৫৫) জানান, ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পড়ার সময় শহরের পূর্বচাদকাঠি এলাকার মৃত নফিসুর রহমানের ছেলে বরিশাল হাতেম আলী কলেজের ছাত্র মাহিবী হাসানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে মেঘার। ২০১৭ সালে মেঘা ঢাকা ইডেন কলেজে ভর্তি হয়। কাঁঠালবাগান এলাকায় এক বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতো মেঘা।

তিনি বলেন, ঢাকায় গিয়ে মাহিবী হাসান প্রায়ই মেঘার সঙ্গে দেখা করতো। মাস ছয়েক আগে মেঘা এবং মাহিবী বিয়ের ব্যাপারে একমত হলেও বাদ সাধেন মাহিবীর মা ঝালকাঠি কির্ত্তীপাশা হাসপাতালের নার্স সেলিনা বেগম।

মেঘার বান্ধবীদের বরাত দিয়ে মেঘার চাচা আবুল বাশার জানান, শবেবরাতের দুদিন আগে শুক্রবার ঢাকায় কাউকে না জানিয়ে তাদের বিয়ে করার কথা ছিল। এ জন্য মেঘা কিছু কেনা কাটাও করেছিল। কিন্তু মাহিবী কথা দিয়েও বিয়ের জন্য আসেনি। এ নিয়ে মোবাইল ফোনে তাদের ঝগড়া হয়।

তিনি জানান, ঘটনার দিন রোববার বিকালে মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও মেঘা এবং মাহিবীর ইমোতে কথা হয়। ভিডিও কলে কথা বলার সময়ই মেঘা তার প্রেমিক মাহিবীকে জানায়- সে যদি বিয়ে না করে তাহলে এখনই সে আত্মহত্যা করবে এবং মাহিবীকে ভিডিও কলে রেখে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে মেঘা ঝুলে পড়ে। মর্মান্তিক এ দৃশ্য দেখেও মাহিবী হাসান মেঘাকে বিয়ের আশ্বাস দেয়নি।

মেঘার মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে মাহিবী ঝালকাঠিতে মেঘার মা রুবিনা আজাদকে মোবাইল ফোনে মেঘার মৃত্যর বিষয়টি জানায়। মেঘার মা বিষয়টি ঢাকায় মেঘার বান্ধবী আনিকাকে জানালে আনিকা কিছু বন্ধুবান্ধব নিয়ে কাঁঠালবাগানের বাসায় যায়।

তারা বাসায় গিয়ে বাড়ির মালিকের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় মেঘাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা মেঘাকে মৃত ঘোষণা করেন।


এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মাহিবী ও তার পরিবারের লোকজনকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। অভিযুক্ত মাহিবী হাসান শহরে পূর্ব চাঁদকাঠি এলাকার প্রয়াত নফিজুর রহমানের ছেলে। তার মা সেলিনা বেগম একজন সরকারি হাসপাতালের সেবিকা।

বিএম/রনী/রাজীব