ছিটানো ফুল পাঞ্জাবিতে নিলেন প্রতিমন্ত্রী স্বপন

বিএম ডেস্ক : ফুল ভালবাসা, সম্মান এবং পবিত্রতার উৎস। আদিকাল থেকেই ফুলকে সম্মান দেখানো হয়। বর্তমানে নেতা-নেত্রীকে তার ভক্তরা ফুল দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন। কিন্তু সেই পবিত্রতার প্রতীক ফুল ছিটানোর পর দেখা যায় মানুষের পদতলে তা পিষ্ট হচ্ছে।

তখন বিবেকবান মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। কারণ যে ফুল দিয়ে তাকে সম্মান দেখানো হচ্ছে আবার সেই ফুলকেই পদতলে পিষ্ট করে তার পবিত্রতা কলুসিত করছে।

ভালবাসার প্রতীক ফুলের মর্যাদা এভাবে কলুষিত হতে দেখে বিবেকবানদের বিবেক যেমন হাহাকার করে উঠে তেমনি একজন স্বপন ভট্টাচার্য্য।

স্বপন ভট্টাচার্য্য কোনো সাধারণ মানুষ নয়। তিনি যশোর মণিরামপুর থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এ ছাড়াও তিনি সরকারের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী।

শনিবার সকালে মণিরামপুর উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের শৈলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন করতে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বপন ভট্টাচার্য্য স্কুলের অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হন।

এ সময় স্কুলের পক্ষ থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থীরা রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে হাতে ফুল নিয়ে অপেক্ষা করছিল প্রতিমন্ত্রীকে ফুল ছিটিয়ে সম্মান প্রদর্শনের জন্য। এ সময় সেখানে ভিন্ন চিত্রের অবতারণ করেন প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। গাড়ি থেকে নেমে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা যখন তার উদ্দেশ্যে ফুল ছিটাতে শুরু করবে, ঠিক তখনই তিনি ফুল ছিটাতে নিষেধ করে হেটে শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে গায়ের পাঞ্জাবি পেতে সেই ফুল গ্রহন করে সম্মানের অগাধ ভালবাসায় সিক্ত করে সবার ভালোবাসায় সিক্ত হন।

প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, ফুল হচ্ছে সম্মানের প্রতীক। সেই ফুলকে পদদলিত করা মানেই ভালবাসা এবং সম্মানকে পদদলিত করা। ফলে সেই ভালবাসা এবং সম্মানকে অসম্মান করার হাত থেকে রক্ষা করতে ফুলকে নিজের আঁচলে গ্রহন করলাম। তার ভাষায় ফুলকে কোনো ভাবেই অসম্মান করা উচিত নয়।

শৈলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রিপন কুমার ধরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পৌর মেয়র অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদুল হাসান, উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেন প্রমুখ।

বিএম/রনী/রাজীব