দুদিনেই ঢিলের আঘাতে শ্রীহীন বনলতা এক্সপ্রেস

বিএম ডেস্ক : অদ্ভুত কিছু মানুষ বাস করে এদেশে। দেশের সম্পদের ক্ষতি করে তারা পাশবিক আনন্দ পায়।

দুদিন হয়নি যাত্রা শুরু করেছে ঢাকা-রাজশাহী রুটে প্রথম বিরতিহীন ট্রেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’।

গত পরশু উদ্বোধনের পর আজ শনিবার ছিল ট্রেনটির প্রথম যাত্রা। শুরু থেকেই ঝকঝকে নতুন এই ট্রেনটিতে ঢিল ছোড়ার উৎসবে মেতে উঠেছে এক শ্রেণীর মানুষ। তাদের ঢিলের আঘাতে চুরমার হয়ে গেছে বনলতার ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড। চিড় ধরেছে জানালার কাঁচে।

ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানিকৃত নতুন সব সুবিধাযুক্ত ট্রেনের কোচগুলো কিছুদিন আগেই দেশে এসেছে। ব্রডগেজ কোচগুলোর বাইরে এবং ভেতরে আছে ডিজিটাল নেমপ্লেট।

রেলওয়ের গ্রুপে আজ পোস্ট করা কিছু ছবিতে দেখা যায়, চলতি পথে ঢিলের আঘাতে সেগুলো ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু বনলতা নয়; ঢিলের আঘাতে গত কয়েক বছরে আমদানি করা নতুন কোচগুলোর অবস্থাও শোচনীয় হয়ে উঠেছে।

চলন্ত ট্রেনে ঢিল ছোড়া মারাত্মক অপরাধ। আশ্চর্য হলেও সত্য যে, বছরের পর বছর প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন ট্রেনে এই ঢিল ছোড়ার ঘটনা ঘটছে। এসি বগির যাত্রীরা ঢিলের আঘাত থেকে বেঁচে গেলেও ননএসির যাত্রীরা প্রতিদিন আহত হচ্ছেন। যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। এ সমস্যার সমাধানে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে। এটা রোধ করতে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করাও জরুরি।

চলন্ত পাথর ছুড়ে মারা দুর্বৃত্তদের লাগাম কোন মতেই থামানো যাচ্ছে না। প্রায় শুনা যায়,পাথরের আঘাতে যাত্রী এবং ট্রেনে অবস্থানরত রেলওয়ে কর্মচারীদের  আহতের খবর। ইতিপূর্বে দুর্বৃত্তের ছোড়া পাথরের আঘাতে যাত্রী নিহতের ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে।

রেলওয়ের পক্ষ থেকে বারবার জনসচেতনতা মূলক প্রচার করার পরও থেমে নেই পাথর নিক্ষেপ।

বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন এ পাথর ছোড়ার বিষয়ে তমুল ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। সবাই কঠোর শাস্তির বিধান করতে বলেছে রেল মন্ত্রনালয়কে।

ত্রিভুজ আলম নামে একজন লিখেছেন, বছরের পর বছর ধরে ট্রেনে ঢিল ছুঁড়ে যাত্রীদের আহত করছে একদল বদমাশ আর এর কোন বিহীত হচ্ছে না। খুব সহজেই ব্যপারটা সমাধান করা যায়। যারা ঢিল ছুড়ে তাদের জন্য ১০-১২ বছরের সাজা + ১ লাখ টাকা জরিমানা আর যে ধরিয়ে দিবে তার জন্য ৫০ হাজার টাকা পুরষ্কার ঘোষণা করলে এই সমস্যার সমাধান দুইদিনেই হয়ে যায়। প্রমাণ হিসেবে মোবাইলে ভিডিও যথেষ্ঠ। শুধু ঘোষণা দিয়ে দেখুক… হাজার হাজার মানুষ মোবাইল নিয়ে রেল লাইন পাহারায় বসে যাবে।

বিএম/রনী/রাজীব