পরিবেশ অধিদপ্তরের গবেষণাগার পরিদর্শণ : কাজে মন্ত্রীর অসন্তোষ

চট্টগ্রাম মেইল : চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদফতরের নবনির্মিত গবেষণাগার পরিদর্শনে গিয়ে কাজের মান নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো.শাহাব উদ্দিন।

গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম শহরের বায়ু, শব্দ ও চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ দুটি নদী কর্ণফুলী ও হালদার পানি নির্দিষ্ট পয়েন্ট থেকে সংগ্রহ করে প্রতি মাসে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের এ গবেষণাগারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। অতচ গবেষনাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজে মোটেও মনোযোগী নয়, তারা যা করছেন তা ভাল করছে না। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক কাজে আরও মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দেন।

শনিবার খুলশীতে নবনির্মিত গবেষণাগার পরিদর্শন শেষে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সততার সাথে দায়িত্ব পালন করার আহবান জানিয়ে মন্ত্রী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিয়মিত বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন করে কারা নদীতে ক্ষতিক্ষারক বর্জ্য ফেলছে চিহ্নিত করুন। তাদের বিরুদ্ধে আইনীভাবে ব্যবস্থা নিন। আদালত, সরকার সকলেই পরিবেশবান্ধব এবং পরিবেশ রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

সভায় পাহাড় কাটাকে ‘সামাজিক ব্যাধি’ হিসেবে উল্লেখ করে এর সঙ্গে জড়িত চট্টগ্রামের প্রভাবশালীদের ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে পাহাড়-টিলা কেটে পরিবেশের ক্ষতি করা চলবে না। কেউ যদি সরকারি ভাবে লিজ নিয়েও অবৈধ ভাবে পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করে সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। সামান্য লোভে পড়ে পাহাড় কেটে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর চট্টগ্রামকে যেন বিনষ্ট করতে না পারে সেদিকেও সকলকে সজাগ থাকার আহবান জানান মন্ত্রী।

ইট ভাটার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবেশ বিনষ্ট করে যেসব ইটভাটার মালিক তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে নামে মাত্র মামলা না দিয়ে কঠোর কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ক্ষতিকর ইটভাটা বন্ধে সরকার নতুন আইন করছে। পরিবেশ বান্ধব ইটভাটা গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া মন্ত্রী অধিদফতরের জনবল বাড়ানোর ব্যাপারেও আশ্বাস দেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার ও সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন, উপপরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার, সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান, বদরুল হুদা। এসময় পরিবেশ অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএম/রাজীব..