আজ থেকে পুলিশের ‘গণসংযোগ সপ্তাহ’ শুরু

বিএম ডেস্ক : শ্রীলংকায় ভয়াবহ বোমা হামলার প্রেক্ষাপটে আজ থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের জঙ্গিবাদবিরোধী গণসংযোগ সপ্তাহ শুরু হচ্ছে।

রবিবার (২৮ এপ্রিল) থেকে এ কর্মসূচি চলবে ৪ মে পর্যন্ত। এ কর্মসূচির আওতায় মহানগর পুলিশের প্রতিটি থানার ওসিকে উঠান বৈঠক ও কমিউনিটি পুলিশিং সভা করতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করে জনঅংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করতে চায় পুলিশ।

এ ছাড়া কমিউনিটি পুলিশের মাধ্যমে সভার আয়োজন করা হবে। পাড়া-মহল্লার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল-কলেজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে উগ্রবাদবিরোধী প্রচারণা চালানো হবে।

ইতিমধ্যে জঙ্গিবাদবিরোধী গণসংযোগের ব্যাপারে সার্বিক দিকনির্দেশনা দিয়ে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ঢাকা মহানগর পুলিশের সব ইউনিটে চিঠি দিয়েছেন। পুলিশের গণসংযোগের এই কার্যক্রম তদারক করবেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও যুগ্ম কমিশনার পদমর্যাদার আট কর্মকর্তা।

জানা গেছে, চলমান বাস্তবতায় দেশের বিভিন্ন জেলায় নতুনভাবে জঙ্গিবাদবিরোধী সচেতনামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করছে পুলিশ।

ডিএমপি কমিশনারের ওই চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি শ্রীলংকায় হামলা ও বাংলাদেশে এর আগের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সন্ত্রাস ও জঙ্গি কার্যক্রমের পেছনে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষঙ্গ কার্যকর আছে। যার ব্যাপ্তি ও পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত। এ ধরনের একটি সমস্যা কেবল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে নিরসন করা সম্ভব নয়। জনগণের ব্যাপক ও সক্রিয় অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়েই সফলতা পাওয়া সম্ভব এ কাজে। বর্তমানে ডিএমপিতে ৩০২টি বিট সক্রিয় ও কার্যকর করে ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ক্রমাগতভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হবে। আজ রোববার এ কার্যক্রম শুরু হয়ে চলবে সপ্তাহব্যাপী।

এ ব্যাপারে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ২০১৬-১৭ সালে জঙ্গিবাদবিরোধী যেসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল নতুনভাবে তা আবার গ্রহণ করা হচ্ছে। উগ্রবাদ মোকাবেলায় পুলিশ সতর্ক রয়েছে। আগাম নিরাপত্তা প্রস্তুতিমূলক সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ কমিশনারের আদেশে পাড়া বা মহল্লায় নতুন কোনো ভাড়াটিয়া এলে যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে সবাইকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তা হলো তারা (ভাড়াটিয়া) সবসময় ঘরের দরজা, জানালা বন্ধ করে রাখছেন কিনা তা নজরে রাখা, প্রতিবেশীর সঙ্গে মেলামেশা না করলে, বাসায় স্বল্প ফার্নিচার রাখলে, টেলিভিশনসহ বিনোদনের কোনো মাধ্যম বাসায় না রাখলে, কাজের লোক ব্যবহার না করলে, পাশের দোকানে না গিয়ে দূরের দোকানে বাজার সদাই করলে তা পুলিশকে জানাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া নিজের সন্তানের মধ্যে বিশেষ কোনো পরিবর্তন যেমন উগ্রবাদ ও সহিংস গোষ্ঠীর প্রতি সহমর্মিতা ও সহানুভূতি প্রদর্শন, ধর্মগ্রন্থের আক্ষরিক ও উগ্র ব্যাখ্যা গ্রহণে আগ্রহ, ভিন্নমতালম্বীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ, পুরনো বন্ধুদের এড়িয়ে চলা, পারিবারিক ও সামাজিক আচার অনুষ্ঠান বর্জন, বিনোদনমূলক কর্মকা- থেকে দূরে থাকা, বাঙালি সংস্কৃতিকে ইসলামের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানো, সরকারি অনুদানে তৈরি মসজিদে নামাজ না পড়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মিত হওয়া, অনুপস্থিতির হার বৃদ্ধি ও ক্লাসে অমনোযোগিতা, পরিবারের অন্য সদস্যদের ধর্মীয় আচারের বিষয়ে ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ এগুলো জঙ্গিবাদের লক্ষণ বলে মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় জানান, জনগণের সহায়তা ছাড়া সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এরই অংশ হিসেবে গণসংযোগ সপ্তাহ শুরু করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য এ বিষয়ে জনগণকে আরও সচেতন করা। পুলিশের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা।

পুলিশ কমিশনারের আদেশে এসব বিষয় উঠান বৈঠক ও কমিউনিটি পুলিশিং সভায় উপস্থাপনের মাধ্যমে নগরবাসীকে সচেতন করতে থানার ওসি ও বিট অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএম/রনী/রাজীব