একগুচ্ছ সমস্যা নিয়ে ওয়াসায় সুজন : ভোগান্তি নিরসনে কাজ করবে ওয়াসা

রাজীব সেন প্রিন্স : তীব্র গরমে চট্টগ্রাম নগরবাসীর সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে সরকার হাজার কোটি টাকা খরচ করলেও তার সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী। ওয়াসার দাবি, নগরবাসীর পানির চাহিদাকে মাথায় রেখে পানির উৎস বৃদ্ধি এবং সঞ্চালন লাইনের কাজ পুরোদমে চলমান। তবে নগরবাসীর অভিযোগ জনসাধারণের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ রাস্তা খুড়াখুড়ি ছাড়া ওয়াসার আরো কোন কাজই দৃশ্যমান নয়।

ইতিমধ্যে নগরজুড়ে বিশুদ্ধ পনির হাহাকার, অনিয়নতান্ত্রিক রাস্তা খুড়াখুড়ি, সঞ্চালন লাইন না থাকা, পানি সরবরাহ না থাকলেও ভুঁতুড়ে বিলের বোঝা, অসাধু কর্মকর্তাদের যোগ সাজশে গ্যালনে করে ওয়াসার পানি বিক্রি, মিটার নষ্ট হলে নতুন মিটার সংযোজনে ঘুষ বাণিজ্য, ওয়াসার পানি সরবরাহে কালো নোংরা দুগন্ধযুক্ত পানি সরবরাহসহ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্ণীতি ও সমস্যা চিহ্নিত করেছে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

এলাকাবাসীর এসব সমস্যা থেকে পরিত্রানের লক্ষ্যে কর্মপন্থা নির্ধারনের জন্য তিনি চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ’র সাথে বিশেষ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। তিনি রবিবার সকাল ১১টায় ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দফতরে মতবিনিময়ে মিলিত হয়ে সমস্যাগুলো থেকে উত্তরণের জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সুজন তার সংগঠনের নেতাদের সহায়তায় নগরবাসীর এক গুচ্ছ সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ দিক নির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্ধের ফলে ওয়াসা যখন পুর্বের দূর্নাম ঘুঁচিয়ে নগরবাসীর আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে চলেছে ঠিক তখনই হঠাৎ করে পুরো নগরজুড়ে বিশুদ্ধ পনির হাহাকার শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার সুপেয় পানির জন্য হাজার কোটি টাকা খরচ করলেও নগরবাসী সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত। তার উপর ওয়াসার রাস্তা খুড়াখুড়ি নগরবাসীর যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়াসার সঞ্চালন লাইন না থাকার তথ্যও সংগ্রহ করেছেন নাগরিক উদ্দ্যেগের কর্মকর্তারা।

সুজন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উদ্দ্যেশে আরো বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়াসার পানি সরবরাহ না থাকলেও প্রতিনিয়ত ভুতুড়ে বিলের বোঝা বহন করতে হচ্ছে অনেক গ্রাহককে। তবে নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকায় ওয়াসার পানির হাহাকার থাকলেও ওয়াসার এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীকে ম্যানেজ করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীগণ গ্যালনে ভরে প্রতিনিয়ত ওয়াসার পানি বিক্রির ব্যবসা চালিয়ে আসছে এমন অভিযোগও পেয়েছে নাগরিক উদ্দ্যেগ। তাছাড়া তিনি বলেন, গ্রাহকের পানির মিটার নষ্ট হলে ঘুষ ছাড়া নতুন মিটার সংযোজন করা হচ্ছে না এবং বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার পানির সাথে কালো নোংরা দূর্গন্ধযুক্ত পানি এসে গ্রাহকের পানির ট্যাংকে জমা হচ্ছে এমন অভিযোগও রয়েছে তাদের কাছে।

খোরশেদ আলম সুজন বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর পুরো চট্টগ্রামে সুপেয় পানি সরবরাহ এবং স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে। নতুন নতুন প্রকল্প বরাদ্ধের ফলে পুরো নগরী ওয়াসার উন্নয়ন কর্মকান্ডের উৎসবে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে এসব উন্নয়ন কর্মকান্ডে। উন্নয়ন কর্মকান্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলতে ওয়াসার অভ্যন্তরে সরকার বিরোধী কেউ ঘাপটি মেরে বসে জনগনকে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলছে কি না সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রতি আহবান জানান সুজন।

তিনি বিদ্যুৎ এবং গ্যাস বিভাগের মতো ওয়াসার পানির বিলও যাতে মোবাইলে প্রদান করা যায় সে ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান এবং গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে একটি হটলাইন নাম্বার চালুর পরামর্শ দেন। পাশাপাশি আসন্ন রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমান যাতে পানির সমস্যায় ইবাগত বন্দেগীতে বাঁধাগ্রস্ত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এছাড়া যে সব এলাকায় ওয়াসার সঞ্চালন লাইন নাই সে সব এলাকায় রমজান মাসে ওয়াসার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সুপেয় পানি সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছেন খোরশেদ আলম সুজন।

সুজনের এসব অভিযোগ ও পরামর্শ দৈর্য্য সহকারে শোনার পর ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, সত্যিকার অর্থেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক অর্থ বরাদ্ধের কারণেই নগরবাসীর সুপেয় পানির নিশ্চিত করতে কাজ করছে ওয়াসা। ইতিমধ্যে অনেকগুলো প্রকল্প চলমান রয়েছে। আমাদের প্রকৌশলীগণ নতুন লাইন স্থাপনে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে।

স্বাভাবিক ভাবে গরমে পানির ব্যবহার বেড়ে যায় আর তাতে সংকট তৈরি হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন এ সংকট নিরসনে কাজ চলছে। গ্রাহকের পাইপলাইন লিকেজ হয়ে গেলে সেখানে ময়লা যুক্ত হয়ে পানি দুর্গন্ধ হচ্ছে। ওয়াসার লাইন লিকেজ হওয়ার কোন সুযোগ নেই। তারপরও দুর্গন্ধযুক্ত পানি পেলে সাথে সাথে ওয়াসার কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান তিনি।

এছাড়া ওয়াসার পানি গ্যালনে ভরে বিক্রির ব্যবসায় ওয়াসার কোন ধরনের কর্মকর্তা কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি আরো বলেন ২০২১ সালে শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার প্রকল্প-২ চালু হবে। এরপর চট্টগ্রামে আর পানি সংকট থাকবে না। শহরের আশপাশের কিছু জায়গায় পানি সংকট রয়েছে। ওয়াসার যে প্রকল্পগুলো চলমান সেগুলোর কাজ শেষ হলে পানির সংকট আর থাকবে না।

রমজানে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহের জন্য ইতিমধ্যে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ফজলুল্লাহ বলেন, রোজায় পানি সরবরাহ সচল রাখতে সব জায়গায় জনবল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেনারেটরগুলো সচল রাখা হচ্ছে, যাতে বিদ্যুৎ না থাকলেও পানি সরবরাহ ঠিক থাকে। পাশাপাশি তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে ভ্রাম্যমাণ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

ওয়াসার গ্রাহক ভোগান্তি নিরসনে অচিরেই একটি হট লাইন চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি গ্রাহকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে ৩৬, ৩৭ ও ৩৮নং ওয়ার্ডের যে সকল এলাকায় ওয়াসার সঞ্চালন লাইন নেই সে সকল এলাকায় ওয়াসার সঞ্চালন লাইন স্থাপন করার নির্দেশ প্রদান করেন।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়াসার সুপারিনটেনডেন্ট প্রকৌশলী মাকসুদুল আলম, আরিফুল ইসলাম, রাজনীতিবিদ হাজী মো. ইলিয়াছ, এস.এম.আবু তাহের, নাগরিক উদ্যোগের সদস্য সচিব হাজী হোসেন কোম্পানী, আব্দুল আজিম, আব্দুর রহমান মিয়া, হাবিবুর রহমান, কুতুব উদ্দিন, এজাহারুল হক, নিজাম উদ্দিন, ছালেহ আহমদ জঙ্গী, নুরুল কবির, এ এস এম জাহিদ হোসেন, সমীর মহাজন লিটন, সাইফুল্লাহ আনসারী, সোলেমান সুমন, শেখ মামুনুর রশীদ, জাহাঙ্গীর আলম, সফি আলম বাদশা, স্বরূপ দত্ত রাজু, হাসান মোঃ মুরাদ, রকিবুল আলম সাজ্জী, নগর ছাত্রলীগ সভাপতি এম. ইমরান আহমেদ ইমু, মোঃ বেলাল, খোরশেদ আলম, মনিরুল হক মুন্না, হাসান মুরাদ, উৎপল দত্ত, আশীষ সরকার প্রমূখ।

বিএম/রাজীব সেন প্রিন্স…