শীঘ্রই দেয়া হবে নুসরাত হত্যার চার্জশীট

বিএম ডেস্ক : শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করে প্রাণ দিয়েছেন মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। নিপীড়কের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আওয়াজ তোলে গত মাসের এ দিনেই প্রথম পদক্ষেপটি নিয়েছিলেন নুসরাত।

২৭ মার্চ মামলা হয় মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। জেলে বসেই কিলিং মিশনের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা। যার ফল কেরোসিনের আগুনে জীবন্ত অগ্নিদগ্ধ নুসরাত। প্রাণের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত প্রতিবাদ করে গেছেন তিনি।

এ মাসের ১০ এপ্রিল প্রতিবাদী মেয়েটি আর নেই, এমন সংবাদে ফুঁসে উঠে পুরো দেশ। রাজনৈতিক ও সামজিক অঙ্গন ছাপিয়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। এ ঘটনায় ঘটনায় তদন্ত ভার পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাঁধে।

পরে আটক আসামিদের জবানবন্দিতে বেড়িয়ে আসে হত্যাকণ্ডের পেছনে থাকা মূল হোতাদের নাম ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফেঁসে যান ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা ও পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। একে একে ফাঁস হয় ক্ষমতা লোভীদের ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেটের জাল।

এদিকে আলোচিত এ হত্যা মামলায় সরাসরি জড়িত ১৬ ও এ ঘটনায় পরোক্ষভাবে জড়িত আরও ৫ জনসহ এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিদের নিয়ে শীঘ্রই চার্জশিট দিবে পিবিআই। এরপরই শুরু হবে বিচারিক কার্যক্রম।

গ্রেফতার ২১ আসামিরা হলেন : সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন, পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, ইফতেখার হোসেন রানা, এমরান হোসেন মামুন, হাফেজ আবদুল কাদের ও মহিউদ্দিন শাকিল।

আট আসামির জবানবন্দি : আট আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এরা হলেন- নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ।

ফেনীর এসপি-ওসিসহ ৪০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ: এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও পুলিশের দায়িত্বহীনতার বিষয়ে জানতে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ৪০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নুসরাত হত্যার তদন্তে গঠিত পুলিশ হেড কোয়াটারের উচ্চপর্যায়ের কমিটি সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নুসরাতকে যৌন হয়রানির পর তাকে আগুন দেওয়া এবং তার মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে যেসব পুলিশ কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন তাদের জবানবন্দি নিয়েছে তদন্ত কমিটি। এ তালিকায় পুলিশ সুপার এবং ওসিসহ মাদ্রাসা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।

সোনাগাজী থানার আলোচিত ওসিকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর ঢাকার উত্তরায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদর দপ্তরে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ‘ওসি দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন’- এমন খবরের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে দায়িত্বশীল এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এপিবিএন সদর দপ্তর অত্যন্ত শৃঙ্খল ও নিরাপত্তা বেষ্টিত। এখান থেকে চাইলেই কেউ চলে যেতে পারেন না। তবে জেলা শহরের কোনো ওসিকে ক্লোজড করা হলে তাকে ওই জেলায় বা রেঞ্জ ডিআইজির অফিসে সংযুক্ত করা হয়। ওসি মোয়াজ্জেমকে ঠিক কেনো এপিবিএন সদর দপ্তরে রাখা হয়েছে সে বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কেউ। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. সোহেল রানা বলেন, ‘তদন্ত চলছে। তথ্য সংগ্রহের প্রাথমিক কাজ শেষ। শিগগিরই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদনে কার কতটুকু দায় ছিল কিংবা আসলেই কারও দায় ছিল কি না- সে বিষয়গুলো পরিষ্কার হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবেদনে যদি পুলিশের কোনো সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায় তবে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাদের অপরাধ ফৌজদারি সমতুল্য হলে প্রচলিত আইনে মামলা হবে।’ তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনার তদন্ত মোটামুটি শেষ। এখন প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ চলছে। আশা করছি, ৮-১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া যাবে।

তদন্তের বিষয়ে সম্প্রতি ফেনীতে কমিটির প্রধান এবং পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি মো. রুহুল আমীন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে নুসরাতের ঘটনায় সোনাগাজী থানার সাবেক ওসির ত্রুটি-বিচ্যুতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওসিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গাফিলতির বিষয়ে তদন্ত চলছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ ২৭ তারিখের (২৭ মার্চ) যৌন হয়রানির ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি যথাযথ ব্যবস্থা নিলে মর্মান্তিক ওই ঘটনা এড়ানো যেত।’

ডিআইজি বলেন, ‘আগে থেকেই অধ্যক্ষ সিরাজের অনেক খারাপ হিস্ট্রি ছিল। ব্যাপারটি গভর্নিং বডির সদস্যরাও জানতেন। যদি আগে ব্যবস্থা নেওয়া হতো তাহলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতো না। এটির সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিও জড়িত। একই দলের দুজন কাউন্সিলর অধ্যক্ষের পক্ষে ও বিপক্ষে মানববন্ধন করেছেন। প্রাথমিকভাবে এর সত্যতা পাওয়া গেছে।’

তিনি বলেন, মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে একটি সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে। তিন তলা বিশিষ্ট ভবনটির নিচ তলা খালি। মেঝেতে নামাজ পড়া হয়। দোতলায় অধ্যক্ষের কার্যালয় ও আলিম শ্রেণিকক্ষ। তৃতীয় তলাতেও রয়েছে শ্রেণিকক্ষ। নুসরাত আক্রান্ত হয়েছিল এ ভবনের ছাদে। সেখানে মেয়েদের ব্যবহারের জন্য দুটি শৌচাগার রয়েছে। সেখানে তাকে আটকে রেখে হাত বেঁধে কেরোসিন ঢেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

আগুনে পোড়া নুসরাত

যার বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ, তিনি তদন্ত কমিটির প্রধান : নুসরাত হত্যার ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পি. কে. এম এনামুল করিমের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন নুসরাতের মা শিরিনা আক্তার। নুসরাতকে হত্যার ঘটনায় প্রশাসনের ভুলত্রুটি ছিল কি না, খতিয়ে দেখতে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, পি কে এম এনামুল করিম ওই কমিটিরও প্রধান।

জানা গেছে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পি কে এনামুল করিম সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি। ওই মাদ্রাসারই অধ্যক্ষ ছিলেন সিরাজ উদ দৌলা। এর আগেও মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও অর্থ তছরুপের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগ নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। তবে তিনি ব্যবস্থা নেননি।

পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত কমিটির কাছে নুসরাতের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্মম দৃশ্যপটের আদ্যোপান্ত তুলেন ধরেন তার মা শিরিনা আক্তার। জানান, সিরাজের কুকর্মের বিচার চাইতে গেলে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিকেএম এনামুল করিম তাকে জানিয়েছিলেন, ‘আপনারা যে মামলা করেছেন তা প্রমাণ করতে না পারলে অধ্যক্ষের লোকজন আপনাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবে।’

এনামুল করিম নুসরাতকে এও বলেছিলেন, ‘প্রিন্সিপাল খারাপ সবাই জানে। তুমি তার কাছে গেছ কেনো। যখন গেছ তখন পুরো বিষয়টি হজম করতে পারলে না কেনো।’

তিনি বলেন, ৪ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে মেয়ে নুসরাত ও ছেলে নোমানকে নিয়ে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি পিকে এম এনামুল করিমের অফিসে যান শিরিনা। সিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগটি জানাতে শুরু করলে পরিচালনা কমিটির সভাপতি বলেন, ‘এখন কেনো এসেছেন? আপনারা তো মামলা করে ফেলেছেন। মামলা করার আগে এলে দেখতাম কী করা যায়।’

তখন নুসরাত তাকে বলেন, ‘আপনি আমার বাবার মতো। আপনি আমার কথাগুলো শুনুন।’ এর উত্তরে এনামুল বলেন, ‘তোমার বাবাকে মাদ্রাসায় বসানোর জন্য এ রকম নাটক সাজিয়েছ।’ পরিচালনা কমিটির সভাপতির এমন বক্তব্য শোনার পর মর্মাহত হয়ে বাসায় ফেরত যায় নুসরাতের পরিবার।

নুসরাতের মা আরও বলেন, ঘটনার দিন ৬ এপ্রিল আনুমানিক সকাল ৯টার দিকে ভাই নোমানকে নিয়ে পরীক্ষার হলের দিকে রওনা হন নুসরাত। বোনকে পরীক্ষার হলে ঢোকানোর পর মাকে ফোন করে নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। ওই দিনই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নোমান তার মাকে ফোন করে জানান, নুসরাতের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। জামা-কাপড় নিয়ে যেতে বলেন। ফেনী সদর হাসপাতালে গিয়ে নুসরাতকে ওই অবস্থায় দেখেন তিনি। নুসরাত তখন তার গায়ে ওড়না জড়িয়ে দিতে বলেন মাকে।

‘জামাই আদরে’ রুহুল আমিন : এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আইনজীবী বলেন, আসামি রুহুল আমিনকে রিমান্ড শেষে গতকাল দুপুর আড়াইটার সময় আদালত হাজতখানায় আনা হয়। তবে তাকে হাজতখানায় না রেখে ‘জামাই আদরে’ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক গোলাম জিলানীর নিজ বাসার কক্ষে আসামি রুহুল আমিনকে চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়। একঘণ্টা পর তাকে গোলাম জিলানীর কক্ষ থেকে বের করে আদালতে না তুলে ‘অনেকটা সম্মানের সঙ্গে’ পিবিআইর গাড়িতে তুলে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

এ বিষয়ে কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক গোলাম জিলানীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অপরদিকে আসামিকে পিবিআইর গাড়িতে তোলার সময় উপস্থিত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইর পরিদর্শক মো. শাহ আলমের কাছে রুহুল আমিনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পিবিআইর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান এ বিষয়টি আপনাদেরকে (সংবাদকর্মীদের) জানাবেন’।

পিবিআইর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ‘আমি তো আদালতে ছিলাম না, আপনারা এ বিষয়টি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলমের কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন’।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু জানান, ‘বৃহস্পতিবার আসামি রুহুল আমিনকে আদালতের হাজতখানায় আনলেও রিমান্ডের নথি (কাগজপত্র) কোর্ট পুলিশ আদালতের বিচারকের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে

আসায় আসামিকে এজলাসে তোলার প্রয়োজন পড়েনি। তবে আদালতে সকল আসামিই সমান, আদালতে কারো রাজনৈতিক দিক বিবেচনা করা ঠিক না।’

এর আগে গত ২০ এপ্রিল রুহুল আমিনকে ফেনী জজ আদালতের সামনের ফটক (মেইন গেইট) দিয়ে না নিয়ে এসে পিবিআইর কর্মকর্তারা পেছনের ফটক (গেইট) দিয়ে আদালতে তোলে। পরে রিমান্ড শুনানি শেষে অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালে পেছনের ফটক (গেইট) দিয়ে তাকে পিবিআইর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার অন্যতম আসামি রুহুল আমিনকে এমনভাবে ‘জামাই আদর’ করাটাকে স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না আদালতে উপস্থিত আইনজীবী ও গণমাধ্যম কর্মীরা। এ বিষয়টির সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যাও দেয়নি পিবিআইর কোনো কর্মকর্তা।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন: নুসরাত আগুনে পুড়েই মারা গেছে। তার মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। নুসরাতের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনটি শনিবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ রোববার (২৮ এপ্রিল) তা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও শাহবাগ থানা পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

শাহবাগ থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) জসীম উদ্দিন বলেন, প্রতিবেদনটি তাঁরা বুঝে পেয়েছেন। ফেনী পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। রোববার তাঁরা প্রতিবেদনটি এসে নিয়ে যাবেন।

শীঘ্রই চার্জশিট : শিগগির দেওয়া হতে পারে চার্জশিট (অভিযোগপত্র)। পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার (চট্রগ্রাম) মো. ইকবাল বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তিনি জানিয়েছেন, ‘নুসরাত হত্যার ঘটনায় তাদের তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করার প্রস্তুতি নিয়ে এগুচ্ছে পিবিআই।’

তিনি বলেন, ‘এ মামলায় এজাহারভুক্ত আট আসামিসহ এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী পাঁচজন- শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, উম্মে সুলতানা পপি ও কামরুন নাহার মনি রয়েছে। এরাসহ মামলায় আট জন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে।’

তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইয়ের সূত্র জানায়, এই ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরীক্ষাভাবে কমপক্ষে ২৫ জন জড়িত রয়েছে। চার্জশিটে এদের প্রত্যেকের নাম আসবে।

প্রসঙ্গত, এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। ১০ এপ্রিল মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআই ২১ আসামি গ্রেফতার করে। এর মধ্যে ৮ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এখনো ৭ জন রিমান্ডে রয়েছে।

বিএম/রনী/রাজীব

আরো খবর:: আগুনে পুড়েই নুসরাতের