সাধ করে কেউ দেশ ত্যাগ করে না: সুলতানা কামাল

আদিবাসী জনগোষ্ঠী সাঁওতালদের জমি ফিরিয়ে দেওয়া এবং তাদের জমি দখলকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি যৌক্তিক এবং সরকারকে সেই দাবি মেনে নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল।

গতকাল (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘আদিবাসী সাঁওতাল ও অন্যান্য প্রান্তিক পরিবারের প্রতি বর্বরতার বিচার ও মানবিক সহায়তার দাবিতে’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সুলতানা কামাল বলেন, “যদি সরকার সাঁওতালদের আট দফা দাবি গ্রহণ না করে তাহলে সাঁওতালরা দেশ ছেড়ে চলে যাবে। আর তা হবে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাবিরুদ্ধ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে।

তিনি বলেন, রংপুর চিনিকল স্থাপনের জন্য আখ চাষ করতে ১৯৬২ সালে বাগদা ফার্ম এলাকার ১ হাজার ৮৪০ একর জমি রিকুইজিশন করা হয়। এসব ছিল স্থানীয় সাঁওতাল ও বাঙালিদের ভোগদখলীয় সম্পত্তি। চুক্তি অনুযায়ী, যে কাজের (আখ চাষ) জন্য জমি রিকুইজিশন করা হয়েছে, তা না করা হলে আগের মালিকদের জমি ক্ষতিপূরণসহ দিতে হবে।

ফিলিমন বাস্কে আরও বলেন, ২০০৪ সালে রংপুর চিনিকল বন্ধ হয়। সেখানে স্থানীয় প্রভাবশালীরা চাষাবাদ শুরু করেন। জমি ফেরত পেতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা আন্দোলন শুরু করলে মিথ্যা মামলা করা হয়। এরপর ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর পুলিশ, প্রশাসনসহ স্থানীয় সন্ত্রাসীরা উচ্ছেদের নামে হামলা করে।

ফিলিমন বাস্কে বলেন, ওই ঘটনার পর হাইকোর্ট দুটি মামলা তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেন। কিন্তু আড়াই বছর হলেও তদন্তের কাজ শেষ হয়নি।

ফিলিমন বাস্কে আরও বলেন, ‘একই জেলার সাংসদ মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যার মামলা তিন মাসের মধ্যে চার্জশিট দিতে দেখেছিলাম। তাহলে এ মামলার তদন্ত আড়াই বছরে হচ্ছে না কেন?’

সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার সংগঠন ব্লাস্টের প্রধান আইন উপদেষ্টা নিজামুল হক বলেন, ‘সরকার গোবিন্দগঞ্জের এই ইস্যুতে চুপ করে আছে কেন। আমরা চাই সরকার তাদের দায়িত্ব পালন করুক। কারণ, এটি মানবিক অধিকারের প্রশ্ন।’

এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, এ ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু বিচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার যদি তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, তাহলে কেমন হয়?

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, বাগদা ফার্মের সাঁওতালদের জমি একরপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা করে লিজ দেওয়া হয়েছে। আর সাবলিজ দেওয়া হচ্ছে ৩০ হাজার টাকা করে। দুদক এত দুর্নীতি দেখে, এটা দেখে না?

স্থানীয় লোকদের মধ্যে সুফল হেমব্রম ও প্রিসিলা মুর্মু আজ বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে বিচারপতি মোহাম্মদ নিজামুল হক বলেন, সাঁওতালদের দাবি মেটানো সরকারের পক্ষে কোনো কঠিন কাজ নয়। সরকারের উচিত দ্রুত সেই দাবিগুলো পূরণ করা।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, সাহেবগঞ্জ বাগদা আবাদি জমি পুনরুদ্ধার কমিটি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম ডেভেলপমেন্ট যৌথভাবে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা সাঁওতালদের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি ফিরিয়ে দেওয়া এবং ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর সাঁওতালদের ওপর আক্রমণকারীদের শাস্তির দাবি করেন।