চট্টগ্রাম বন্দরের কোকেন জব্দ : ১০ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু

চট্টগ্রাম মেইল : চট্টগ্রাম বন্দরে চাঞ্চল্যকর তরল কোকেন জব্দের ঘটনায় মাদক আইনে দায়ের হওয়া মামলার চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৯ এপ্রিল) চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ-১ মো.আকবর হোসেন মৃধা এ মামলায় ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। পাশাপাশি আগামী ১৯ মে থেকে ২৩ মে’র মধ্যে প্রথম দফায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন।

চট্টগ্রাম মহানগর সরকারি কৌঁসুলি মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কোকেন জব্দের ঘটনায় মোট দুটি মামলার মধ্যে মাদক আইনের মামলার বিচার কাজ শুরু করার আদেশ দিয়েছে আদালত।অপর চোরাচালান মামলাটি এখনো অদিকতর তদন্তের জন্য র‌্যাব কাজ করছে।

গত ৬ জুন পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোকেন সন্দেহে চট্টগ্রাম বন্দরে সূর্যমুখী তেলের চালান জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এরপর ২৭ জুন তেলের চালানের ১০৭টি ড্রামের মধ্যে একটি ড্রামের নমুনায় কোকেন শনাক্ত করা হয়। প্রতিটি ড্রামে ১৮৫ কেজি করে সূর্যমুখী তেল রয়েছে। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাসায়নিক পরীক্ষাগারসহ চারটি পরীক্ষাগারে তেলের চালানের দুটি ড্রামের (৯৬ ও ৫৯ নম্বর) নমুনায় কোকেন শনাক্ত করে। চালানটি উরুগুয়ের মন্টিভিডিও থেকে জাহাজীকরণ করা হয়। পরে তা সিঙ্গাপুর হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে।

কোকেন জব্দের ঘটনায় চট্টগ্রামের বন্দর থানায় গত ২০১৫ সালের ২৭ জুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এ মামলা হয়। আসামি করা হয় চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খানজাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদকে। তেলের চালানে কোকেন শনাক্ত করার ঘটনার পাঁচ মাস পর চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ নূর মোহাম্মদকে অব্যাহতির সুপারিশ করে লন্ডনপ্রবাসী দুই বাংলাদেশিসহ আটজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন আদালতে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, চালানটিতে ৩৭০ লিটার তরল কোকেন রয়েছে। সাক্ষী রাখা হয়েছে ৫৮ জনকে। চালানের গন্তব্য অজানা থাকায় এবং আন্তর্জাতিক চক্র শনাক্ত না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ নারাজি আবেদন করলে আদালত র‌্যাবকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে চোরাচালানের অভিযোগে এই মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের ধারাও সংযোজন করা হয়। র‌্যাব নুর মোহাম্মদসহ ১০ জনকে আসামি করে ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

মামলায় অভিযুক্ত ১০ জন হলেন- আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের খানজাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ ও তার ভাই মোস্তাক আহম্মদ, কসকো-বাংলাদেশ শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপক এ কে এম আজাদ, সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মেহেদী আলম, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, আবাসন ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল, প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা সোহেল, পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান, লন্ডনপ্রবাসী চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের ফজলুর রহমান ও মৌলভীবাজারের বকুল মিয়া।

এদের মধ্যে গোলাম মোস্তফা সোহেল ও আতিকুর রহমান হাজতে আছেন। জামিনে থাকা আসামি মেহেদী আলম, একেএম আজাদ, সাইফুল ইসলাম ও মোস্তফা কামাল অভিযোগ গঠনের শুনানির সময় আদালতে হাজির ছিলেন। পরে জামিনে গিয়ে পালিয়ে গেছেন নুর মোহাম্মদ। এছাড়া মোস্তাক আহম্মদ, ফজলুর রহমান ও বকুল মিয়া শুরু থেকেই পলাতক আছেন।

বিএম/রাজীব..