সিডিএতে দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ হবে-দোভাষ

চট্টগ্রাম মেইল : চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নব নিযুক্ত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম জহিরুল আলম দোভাষ বলেছেন, সিডিএকে জনগণ জনবান্ধব সংস্থা হিসেবে দেখতে চায়। জনগণের এই আশা বাস্তবায়িত করাটাই আমাদের সমন্বিত দায়িত্ব। সিডিএ’র সমস্ত কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে। সর্বোপরি আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় অঙ্গীকার ও ঘোষণা অনুযায়ী দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতির শতভাগ অনুসরণ করা হবে। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো অবশ্যই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আলোকে বাস্তবায়িত হবে।

তিনি সোমবার সকালে সিডিএ’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকালে এ সংস্থাটির বোর্ড সদস্য কর্মকর্তা কর্মচারী ও উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে একথাগুলো বলেন। আজ সকাল ১০টায় এম. জহিরুল আলম দোভাষ তাঁর ফিরিঙ্গীবাজারস্থ বাসভবন থেকে সিডিএ ভবনে পৌঁছান। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানান সিডিএ’র বোর্ড সদস্য, পদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমান্য ব্যক্তিবর্গ।

তাৎক্ষণিক এক সুধী সমাবেশে তিনি আরো বলেন, সাধ এবং সাধ্যের যেমন একটা সীমা আছে তার সাথে প্রকল্প সমূহ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সময়ের ব্যাপারটারও বিবেচনায় আনতে হবে। আমরা জানি এ নগরীর প্রধান সমস্যা ও দুঃখ-দুর্দশা হচ্ছে জলাবদ্ধতা। চট্টগ্রাম শহরকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন। যার কার্যক্রম সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

সিডিএর সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের বক্তব্যে আমরা জানতে পারি নগরী এ বছরে জলাবদ্ধতা মুক্ত হবে না এবং এর সুফল পেতে হলে আর তিন/চার বছর সময় লাগবে। তবে আমি দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞা করছি এ প্রকল্প যথাশীঘ্রই সম্ভব বাস্তবায়ন করে চট্টগ্রাম নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ হতে মুক্ত করবো। এছাড়া ইতোমধ্যে গৃহিত চলমান প্রকল্পসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নে এবং জনগণের অগ্রাধিকার বিবেচনায় নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। আমি অত্যন্ত আশাবাদী যে আমার নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা ও পরামর্শে এবং আমার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রামকে একটি বিশ্বমানের নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।

সিডিএ’র চেয়ারম্যান এম. জহিরুল আলম দোভাষ তাঁর বক্তব্যের শুরুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁকে সিডিএ’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব প্রদানে তিনি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি কৃতজ্ঞচিত্তে আরো স্মরণ করেন চট্টগ্রামের কিংবদন্তিতুল্য রাজনীতিক এম.এ.আজিজ, জহুর আহমদ চৌধুরী, এম.আর সিদ্দিকী, এম এ হান্নান, এম এ মান্নান, অধ্যাপক পুলিন দে, আখতারুজ্জাামান চৌধুরী বাবু, আতাউর রহমান খান কায়সার, সৈয়দ ফজুলল হক বি.এসসি. সিরাজুল হক মিয়া, এম এ ওয়াহাব, কাজী ইনামুল হক দানু, নুরুল আলম চৌধুরী এবং বিশেষ করে চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বপ্নপুরুষ সাবেক সফল মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে। একই সাথে তিনি স্মরণ করেন তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর এম জানে আলম দোভাষকে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব বেগম তাহেরা ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সুধী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সিডিএ’র নব নিযুক্ত চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক। তাঁর প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে আস্থা রেখেছেন তা অত্যন্ত সঠিক। আমার বিশ্বাস নব নিযুক্ত চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম নগরীকে বিশ্ব মানের পর্যায়ে উন্নীত করতে সফল হবেন। তিনি চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি স্মৃতিস্তম্ভ বাস্তবায়নের দাবি জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নব নিযুক্ত চেয়অরম্যান জনকল্যাণমুখী নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করে এ সংস্থাটিকে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবেন।

নব নিযুক্ত চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ তার এ শুভ যাত্রায় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রাক্তন গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারর হোসেন এমপি. গণপূর্তমন্ত্রী এড. স ম রেজাউল করিম এম.পি, তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ এম.পি, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এম.পি, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এম.পি, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের সকল সংসদ সদস্য এবং বিদায়ী সিডিএ’র চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের কাজ থেকে চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে বেগম তাহেরা ফেরদৌস বলেন আমরা নব নিযুক্ত চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষকে চট্টগ্রামের উন্নয়ন যাত্রায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাব এবং এ সংষ্থাটির বর্তমান স্থিত অবস্থা থেকে আরো উন্নত গতিশীল করতে সহযোগিতা করে যাব। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সিডিএ বোর্ড সদস্য মো: গিয়াস উদ্দিন, প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস, মো: মোস্তফা জামাল। এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দিন চৌধুরী, এড. সুনীল কুমার সরকার, এড.ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য নোমান আল মাহমুদ শফিক আদনান, হাসান মাহমুদ শমসের, শফিকুল ইসলাম ফারুক, এড. ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, আহমেদুর রহমান সিদ্দিকী, আবদুল আহাদ, দেবাশীষ গুহ বুলবুল, ইঞ্জিনিয়ার মানস রক্ষিত, দিদারুল আলম চৌধুরী, আবু তাহের, হাজী মো: হোসেন, শহীদুল আলম, কার্যনির্বাহী সদস্য হাজী মো: ইয়াকুব, গাজী শফিউল আজিম, কামরুল হাসান ভুলু, নুরুল আবছার মিয়া, ইউসুফ সর্দার, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, নজরুল ইসলাম বাহাদুর, অমল মিত্র, রোটারিয়ান মো: ইলিয়াছ, সডিএ’র বোর্ড সদস্য মো: জসিম উদ্দিন শাহ, কে.বি.এম শাহজাহান, হাসান মুরাদ বিপ্লব, স্থপতি আশিক ইমরান, এম.আর.আজিম, থানা আওয়ামী লীগের সাহাব উদ্দিন আহমেদ, টিংকু বড়–য়া, শ্রমিক লীগের কাজী মাহবুবুল হক চৌধুরী এটলী, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের রফিকুল হোসেন বাচ্চু, স্বপন কুমার মজুমদার, হাফিজ উদ্দিন আনসারী, অধ্যাপক মাসুম চৌধুরী প্রমুখ।

বিএম/রাজীব সেন…