বায়তুল মোকাররম মসজিদ ও ইফা উড়িয়ে দেয়ার হুমকি

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হুমকি দেওয়া হয়েছে।

নিজেকে জেএমবি কর্মী পরিচয় দিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক বরাবরে ডাকযোগে এক চিঠিতে এ হুমকি দিয়েছেন হাফেজ মাওলানা কামরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি।

মসজিদের আশপাশের আবাসিক হোটেলগুলোতে অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানিয়ে এ হুমকি দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কাজী নুরুল ইসলাম চিঠির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অপরিচিত একজন ব্যক্তি নিজেকে জেএমবি কর্মী দাবি করে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি সরকারের শীর্ষ মহলে জানিয়েছি।

বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট জোনের উপ-পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

জানা যায়, রাজধানীর বংশালের ১৪৭/এ, মালিটোলার ঠিকানা ব্যবহার করে হাফেজ মাওলানা কামরুজ্জামান নিজেকে জেএমবি কর্মী পরিচয় দিয়ে গত ১৮ এপ্রিল ডাকযোগে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক বরাবর একটি চিঠি পাঠান। চিঠিটি গত ২৩ এপ্রিল ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করে।

এরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। পরে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়। এছাড়াও ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঢাকা মহানগর পুলিশকে আলাদা চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবহিত করে ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

চিঠিতে বলা হয়- ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের আধা কিলোমিটারের মধ্যে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়ার ১০ কাজী আবদুল হামিদ লেনের ‘হোটেল স্বর্নালী’তে ৩য় থেকে ৫ম তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোরে দৈনিক ৪০ থেকে ৫০টি তরুণীকে দিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।’

এতে আরো বলা হয়- হোটেলের পরিচালকের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশের কিছু কর্মকর্তাও জড়িত। দৈনিক যা আয় হয় তার বেশিরভাগ টাকা ওইসব অসাধু কর্মকর্তাদের মধ্যেও ভাগ-বাটোয়ারা হয় বলে চিঠিতে অভিযোগ করা হয়। চিঠিতে লালবাগ জোনের একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার নামও উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়- ‘এসব অন্যায় ব্যভিচার আমরা সহ্য করবো না। যদি ওই হোটেলের অসামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা না হয় তাহলে বায়তুল মোকাররম মসজিদ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনে বোমা ও টাইম বোমা চার্জ করে বিশ্ব মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে বলবো, ব্যাভিচারে বাংলাদেশ শীর্ষে। বোমার আঘাতে ইমাম, খতিব, মোয়াজ্জিন কাউকে শেষ করতে পারলেই কেল্লা ফতেহ। পুরো বিশ্ব জানবে, বর্তমান সরকার ও তার পুলিশ কী জঘন্য কাজে লিপ্ত। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দু’টি মসজিদে ৫০জন মানুষকে মারা হয়েছে। আমরা ইচ্ছা করলে তার কয়েকগুন নামাজিকে বায়তুল মোকাররমের মধ্যে মেরে নিরাপদে চলে আসতে সক্ষম। তাই অবিলম্বে এ অসামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করুন।’

বায়তুল মোকাররম মসজিদে বোমা হামলার হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব কাজী হাসান আহমেদ চিঠির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, জেএমবি কর্মী নামে যে উড়ো চিঠিটা পাঠানো হয়েছে সেটা আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

জঙ্গি হামলার হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল জোনের উপ কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, চিঠিটি আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি। যেখানে নিরাপত্তা বাড়ানো উচিত সেখানে নিরাপত্তা বাড়িয়েছি। তদন্ত চলছে। তবে বলার মতো এখনও কিছু পাইনি। চিঠির ঠিকানা অনুযায়ী জেএমবি কর্মীকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবো।

বিএম/রনী/রাজীব