বৃত্তাকার রেলপথ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে পরামর্শক নিয়োগ

ঢাকার চারপাশে বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে পরামর্শক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

সম্ভাব্যতা সমীক্ষাটি যৌথভাবে পরিচালনা করবে চায়না রেলওয়ে সিয়্যুয়ান সার্ভে অ্যান্ড ডিজাইন গ্রুপ, বাংলাদেশের বেটস কনসালটিং সার্ভিসেস লিমিটেড ও ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড অ্যাডভাইজর্স লিমিটেড (ইএএল)।

সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর পেছনে ২৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা খরচ করছে রেলওয়ে। সরকারি অর্থায়নে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কার্যক্রমে দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন। এ বিশেষজ্ঞরা ঢাকা সার্কুলার রেলের জন্য কারিগরি সম্ভাব্যতা, অর্থনৈতিক ও আর্থিক সম্ভাব্যতা, টপোগ্রাফিক, জিওটেকনিক্যাল, হাইড্রোলজিক্যালসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য জরিপ, ট্রাফিক গবেষণা, সামাজিক মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ, ভূমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা, পুনর্বাসন পরিকল্পনা এবং পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবেন।

বৃত্তাকার রেলপথের রুট

পাশাপাশি ঢাকা সার্কুলার রেলের একটি ধারণাগত নকশা ও ব্যয় প্রাক্কলনও করবেন তারা। এর বাইরে বিনিয়োগ প্রকল্পের জন্য ডিপিপি তৈরির কাজও করবে পরামর্শকদের এই জয়েন্ট ভেঞ্চার।

এজন্য তাদের ১২ মাস সময় দিয়েছে রেলওয়ে।
গতকাল পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এ সম্পর্কিত একটি চুক্তি সই করেছে রেলওয়ে।

রেলওয়ের সার্কুলার রেল নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মনিরুল ইসলাম ফিরোজী ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে চায়না রেলওয়ে সিয়্যুয়ান সার্ভে অ্যান্ড ডিজাইন গ্রুপের ডেপুটি হেড অব মার্কেটিং চু জুকুয়ান চুক্তিপত্রে সই করেন।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, বর্তমান সরকার রেল খাতকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্প তৈরি ও বাস্তবায়ন করছে। দেশের রেল খাতকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিয়ে যাওয়ার জন্য বর্তমান সরকার কাজ করছে। ঢাকা সার্কুলার রুট ব্যবহার করে মানুষ দ্রুত তাদের গন্তব্যে পৌঁছবে। ফলে যানজট অনেকটা কমে যাবে। এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকার চারদিকে তৈরি করা হবে ৮১ দশমিক ৯ কিলোমিটার বৃত্তাকার রেলপথ।

অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ঢাকা সার্কুলার রেল সরকারের সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার অংশ। এ রেলপথের সঙ্গে ঢাকার পাঁচটি মেট্রোরেল ও দুটি বিআরটির (বাস র্যাপিড ট্রানজিট) সংযোগ থাকবে। এটি নির্মাণ করা হবে ইনার রিং রোডের রুটে। পাশাপাশি সার্কুলার রেলের চারপাশে নৌপথ গড়ে তোলার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথাও এ সময় তুলে ধরেন তিনি।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে রেলওয়ের মহাপরিচালক কাজী মো. রফিকুল আলম ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আনোয়ারুল হক বক্তব্য রাখেন। এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয়, রেলওয়ে ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে জানা গেছে, রেলপথটি গাজীপুরের টঙ্গী থেকে শুরু করে আবার টঙ্গী স্টেশনে এসে শেষ হবে। টঙ্গী, ধউড়, উত্তরা, বিরুলিয়া, মিরপুর চিড়িয়াখানা, শঙ্কর, নবাবগঞ্জ, বাবুবাজার, সদরঘাট, শ্যামপুর, ডেমরা, পূর্বাচল ও তেরমুখ হয়ে আবার টঙ্গী গিয়ে শেষ হবে।

প্রথম দিকে অবশ্য পরিকল্পনা করা হয়েছিল, রেলপথটি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের তারাব সেতু এলাকা থেকে শুরু হবে। তারপর ইস্টার্ন বাইপাস, আবদুল্লাহপুর, ডিএনডি বাঁধ, লালবাগ, পোস্তগোলা, কদমতলী হয়ে আবার তারাবতে গিয়ে শেষ হবে। তবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর রুট চূড়ান্ত হবে।

প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকা। বাস্তবায়ন করতে সময় লাগবে তিন বছর। পুরো রেলপথে কোনো লেভেলক্রসিং থাকছে না। লেভেলক্রসিং থাকলেই সৃষ্টি হয় যানজট। এ জন্য পুরো রেলপথটাই হবে উড়ালপথ।

ঢাকার এলিভেটেড বা উড়ালপথে স্থানে স্থানে থাকবে ২০টি রেলস্টেশন। সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ৫ মিনিট পর পর দুই দিক থেকেই চলবে ট্রেন। রাজধানীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলাচলে ২৫ মিনিট লাগবে। রেলপথের টিকিট ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হবে স্মার্ট কার্ড।

বিএম/রনী/রাজীব