সেনাবাহিনীর সহযোগীতা পাওয়া দুর্গম পাহাড়ের সেই নারী কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন

কখনও নিরাপত্তা দিয়ে, কখনওবা উদ্ধার করে আবার কখনও দুর্গম এলাকায় খাবার, পানি ও স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে, এমনকি দেশের চরম পরিস্থিতিতেও এগিয়ে এসে নিজেদের অনেকবার প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

এমন অসংখ্য প্রতিদানের মধ্যে এবার দুর্গম এলাকার এক প্রসূতি নারীকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নিয়ে এসে নজির গড়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর এমন দায়িত্বশীলতায় বেঁচে গিয়েছে দুটি প্রাণ।

রাঙ্গামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার ভারত-মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রাম বগাখালী। দুর্গম এই গ্রামে খুব বেশি নাগরিক সুবিধার পৌঁছেনি। গ্রামটি এতটাই প্রত্যন্ত যে, তাকে হাসপাতালে নিতে হলে ঝিরি, নদী ও রাস্তা মিলিয়ে শহরে যেতে প্রায় ৭ দিন লেগে যেত।

হেলিকপ্টারে তোলা হচ্ছে জিতনি তংচঙ্গ্যাকে

জুরাছড়ি উপজেলার বগাখালী নামক সেই গ্রামের গরিব ও অসহায় ঈশ্বর চন্দ্র তনঞ্চংগ্যার স্ত্রী জতনী তনঞ্চংগ্যা (২৩) চারদিন ধরে প্রসব বেদনায় ভুগছিলেন। মুমূর্ষু এই জতনীকে দ্রুত সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন সেনাবাহিনী।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে প্রাণে বাঁচিয়েছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত চার দিন ধরে এই নারী নিজ ঘরে প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে ডাকা হয়েছিল ধাত্রীকে। ধাত্রী প্রসব করাতে ব্যর্থ হন। কিন্তু কাছাকাছি কোনো হাসপাতাল না থাকায় একপর্যায়ে তাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না বলেই ধরে নিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা।

বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে সোমবার সকালে জতনিকে বগাখালীতে বিজিবি’র সীমান্ত চৌকিতে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এই প্রসূতিকে হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন।

দুপুর ২টার দিকে হেলিকপ্টার সেনানিবাসে অবতরণের পর দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে জতনিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। জতনি’র শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছিল হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।

অবশেষে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন সেই প্রসূতি নারী জিতনি তংচঙ্গ্যা একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছেন। বর্তমানে মা ও শিশুটি সুস্থ্য রয়েছেন বলে সিএমএইচ সূত্রে জানা যায়।

এর আগে, গত ৩১ ডিসেম্বর একই গ্রাম থেকে সোনাপতি চাকমা নামে আরও এক প্রসূতিকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে এনে প্রাণ বাঁচায় সেনাবাহিনী।

বিএম/রনী/রাজীব