উপকূলের ৪০ হাজার জেলে পরিবারে ক্ষোভ!

    ইসলাম মাহমুদ, কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজার উপকূল সমুদ্র সীমানায় ২০ মে থেকে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার । আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। এ ঘোষণার পর বোট মালিক ও জেলেরা আন্দোলনে নেমেছে।

    মানববন্ধন-স্বারকলীপি ও সাংবাদিক সম্মেলন করে সেই আইন অন্তত সংশোধন করতে অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে বোট মালিক ও জেলেদের সঙ্গে কথা হলে বলেন, আপনারা ভাল ভাবে ঈদ করেন। আমাদের দেখার কে আছে? সন্তানদের ঈদের কাপড় কিভাবে দেব। হয়তো এমনিতেই ঈদ করতে হবে।

    কক্সবাজারের নৌকা মালিক সমিতির পক্ষে টেকনাফের সুলতান আহমদ বলেন,একটানা ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞায় কক্সবাজার-টেকনাফের জেলেদের মধ্যে চরম অসেন্তাষ দেখা দিয়েছে। এমনিতে গত দুই বছর ধরে টেকনাফে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে।

    কথিত মাদকপাচারের ভূয়া অজুহাত তুলে এ কালো আইন করে একমাত্র উপার্জনকৃত জেলেদের অনাহারে বসিয়ে রেখেছে সরকার। তার উপর আবার এখন ৬৫ দিন একটানা বন্ধ ঘোষনা করেছে। এভাবে তো চলতে পারেনা। এখন পবিত্র রমজান-সামনে ঈদ আমরা করব কি ? খাব কি সন্তান পরিবার-পরিজনকে নিয়ে কি করবো সেই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। এই আইন বাতিলে প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যাওয়ারও হুমকি দেন তিনি।

    তিনি আরো বলেন, বর্তমানে টেকনাফে নেই সুপারী-পান ব্যবসা। এই মৌসুমে আছে শুধু মাছ আহরণ। সেই মাছ ধরার মৌসুমে পেটে এমন ধাক্কা মারবে তা কখনো কল্পনা করিনি। আমাদের বোট ও জেলেরা মূলত ফজরের পর থেকে দুপুর পর্যন্ত সাগরে থাকে। কিন্তু কেন কি অজুহাতে এতদিন মাছ ধরতে পারবেনা তা সকলকে ভাবিয়ে তুলেছে। জেলেরা এই সময়ে উপার্জনহীন হয়ে পড়ার শঙ্কাও তুলে ধরেন তিনি।

    এমনকি কিছুদিন আগে সংসারে ভরণপোষন দিতে না পেরে সাবরাংয়ের এক জেলে ঝাউগাছে রশি বেধে আত্মহত্যা করেছে। সেই রকম ঘটনা সামনে আরো ঘটবে। সেই দায়িত্ব সরকারকে নিতেই হবে।

    অন্য নৌকা মালিক ও জেলেরা জানান, তারা মহাজন ও আড়তদারের কাছ থেকে দাদন নিয়েছেন। এনজিও থেকে ঋণ এবং চড়া সুদেও টাকা এনেছেন অনেকে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে সমুদ্রে মাছ ধরতে না পারলে তাদের পক্ষে ঋণ শোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। হয়তো জাল-ট্রলার বিক্রি করে এসব দেনা শোধ করতে হবে।

    নৌকা মালিক কোরবান আলী বলেন, ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই ৬৫ দিন সমুদ্রে সব ধরনের মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। কিন্তু জেলে পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টেকনাফের প্রায় ৪০ হাজার পরিবারের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। শুধুই কি চাল খেয়ে বেঁচে থাকা যায়।

    তিনি আরও বলেন, আমরা মাছ ধরে দৈনিক যা আয় করি, তা দিয়েই সংসার চলে। প্রায় আড়াই মাস যদি মাছ ধরা বন্ধ রাখতে হয়, তাহলে এতোগুলো পরিবার চলবে কীভাবে? আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই, মাছ আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা পুনরায় বিবেচনা করুন। জেলেদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিন।

    এদিকে মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানা গেছে, নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশসহ অন্যান্য বড় বড় মাছের প্রজনন মৌসুম। এ সময় মাছ শিকার করলে মৎস্য উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়। তাই ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মৎস্য নৌযানের বাণিজ্যিকভাবে যেকোনো প্রকার মৎস্য আহরণ বন্ধ করা হয়েছে।

    ২০১৫ সাল থেকে সমুদ্রে মাছের এই প্রজনন মৌসুমে (২০ মে থেকে ২৩ জুলাই) মাছ ধরা আইন চালু করা হয়।

    বিএম/রাজীব..