করতোয়া ভাঙনরোধে বোল্ডার নির্মাণ কাজ দায়সারা ভাবে চলছে

    রংপুর প্রতিনিধি:রংপুরের পীরগঞ্জের টোংরারদহ গ্রামে সোয়া ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে করতোয়া ভাঙনরোধে বোল্ডার নির্মাণ কাজ কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় দায়সারাভাবে করা হচ্ছে।

    এখানে যেন মিস্ত্রিরাই সবেধন নীলমনি। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজটি পরিদর্শনে গিয়ে কাউকে না পেয়ে ও কাজের মান দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

    এমনই দায়সারা ভাবে পীরগঞ্জের উপজেলার চতরা বড় বদনারপাড়া টোংরারদহ গ্রামে করতোয়া নদীর ভাঙন ঠেকাতে বোল্ডার নির্মাণ কাজ চলছে। এদিকে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নির্মাণ কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

    রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রংপুর-দিনাজপুর সীমানা দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদীটি প্রতিবছরই পানি কমার সাথে সাথে ভাঙন শুরু হয়। ভাঙন ঠেকাতে ওই নদীপাড়ে বোল্ডার নির্মাণ করার জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে প্যাকেজ করে ঠিকাদারদেরকে কাজ দেয়া হয়েছে।

    এরমধ্যে ১৩ নং প্যাকেজটির প্রাক্কলন মূল্য ৪ কোটি ৬৭ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪০ টাকায় রংপুরের মেসার্স খায়রুল কবির রানা ঠিকাদারী পায়। কাজটির চুক্তি মূল্য ৪ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৯২০ টাকা। গত ২০ মার্চ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি কার্যাদেশ পেয়ে করতোয়া নদীর টোংরারদহ নামকস্থানে বোল্ডার নির্মাণের কাজ করছে। শেষ হবে আগামী ২০২০ সালের ৩১ মে।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বোল্ডার নির্মাণ কাজের স্থান থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে বড় বদনারপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে পাথর রাখা হয়েছে। বোল্ডার তৈরির কাজে ব্যস্ত শ্রমিকরা পাথরের ময়লা না ধুয়েই বালু-সিমেন্টে মিশ্রণ করছে। মিশ্রনে ১টি বালু, ৩টি সিমেন্ট এবং ৬টি পাথর দেয়ার কথা।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানায়, বালু, সিমেন্ট, পাথরের মিশ্রনের অনুপাতে একটু কমবেশি করা হচ্ছে। তদারকি না থাকায় মিস্ত্রিরাই সবেধন নীলমনি।

    এ ব্যাপারে ঠিকাদার খায়রুল কবির রানা বলেন, চ্যালেঞ্জ করলাম কাজে কোন রকম অনিয়ম নেই। কারণ বুয়েট-ল্যাবরেটরিতে টেস্টে রেজাল্ট না এলে কর্তৃপক্ষ বিল দেবে না।

    পীরগঞ্জের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফারুক শিকদার বলেন, ৩৫ সিএম বাই ৩৫ সিএম বাই ৩৫ সিএম ১৮ হাজার ৬৫৯টি, ৪০ সিএম বাই ৪০ সিএম বাই ৪০ সিএম ১৮ হাজার ৭৫০টি এবং ৪০ সিএম বাই ৪০ সিএম বাই ২০ সিএম আকারের ২৭ হাজার ৮৬৩টি মোট ৬৫ হাজার ২৭২ টি বোল্ডার তৈরি করা হচ্ছে।
    তিনি আরও বলেন, বেশ কয়েকটি কাজের সাইড চলায় এক সপ্তাহেও অনেক সময় কাজ দেখতে যেতে পারি না। তবে দুর্নীতি-ঘাবলা হচ্ছে না।

    এদিকে, রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, সঠিকভাবে কাজ করা হচ্ছে। কারণ ঢাকা থেকে টাক্স ফোর্স এসে তদন্ত করে দুর্নীতি পেলে ব্যবস্থা নিবেন। এ ভয়ে ঠিকাদাররাই ভাল কাজ করেন।

    এ ব্যাপারে পীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিএমএ মমিন জানান, কাজের গুণগতমান কেমন হয়েছে সে বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার ভালো বলতে পারবে। তবে আমি সম্প্রতি পরিদর্শন করেছি।

    বিএম/সোহেল রশীদ/রনী