ভারতের নির্বাচন থেকে সরকারকে শিক্ষা নেয়া উচিত:মোশাররফ

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ভারতের লোকসভার নির্বাচনে সে দেশের জনগণ নিজেরা ভোট দিতে পেরেছে, তাদের পছন্দমত দলকে ভোট দিয়েছে, তাদের পছন্দমত দলকে ক্ষমতায় এনেছে। আমি ভারতের নির্বাচনের বিষয়ে বলতে চাই- প্রথমে বাংলাদেশ সরকার, দ্বিতীয় বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন এবং তৃতীয় বাংলাদেশের সকল পর্যায়ের প্রশাসকদের আজকে ভারতের থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত।

    ভারতের এই নির্বাচন থেকে বাংলাদেশকে বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও সরকারকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

    শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী নাগরিক দলের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদাত বার্ষিকী ও দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    দেশে গণতন্ত্র নেই বলে মন্তব্য করে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এমতাবস্থায় বাংলাদেশের সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আওয়ামী লীগকে ভারতের লোকসভার নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত।

    ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য করে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, কথায় কথায় ভারতের কথা বলেন আজকে সরকারের নেতারা। আজকে ভারতের যে নির্বাচন হলো সেই নির্বাচনের ব্যাপারে, সেই নির্বাচনের প্রক্রিয়া-পদ্ধতির ব্যাপারে আপনাদের কোনো চিন্তাভাবনা নেই। আমি মনে করি, সরকার যেমনি করে ভারতের অন্যান্য বিষয়ে বলেন। তেমনি করে ভারতের এই নির্বাচনের থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে বাংলাদেশের এই ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হয় যেখানে কোনো একজন নাগরিকের, কোনো একটি বিরোধী দল নেতা সেই নির্বাচন সম্পর্কে প্রশ্ন থাকবে না। ভারতের লোকসভার নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোটের জন্য জনগণ ও সেদেশের নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য।

    ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী দেশ ভারত এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের গণতন্ত্র কাকে বলে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশে আজ গণতন্ত্র নেই। এই গণতন্ত্রকে আমাদের উদ্ধার করতে হবে। গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারলে গণতন্ত্র মুক্ত হবে না। সেজন্য দেশে গণতন্ত্র উদ্ধার, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আপনারা যে যেখানে আছেন, যার যেখানে শক্তি আছে সকলে ঐক্যবদ্ধ হোন।

    আন্দোলনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করতে ‘দল ও অঙ্গসংগঠন’কে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মুখে শুধু ঐক্যবদ্ধের কথা বললে হবে না। এরজন্য প্রক্রিয়া প্রয়োজন। সেই প্রক্রিয়া আমরা শুরু করেছি। আমাদের সকল ক্ষেত্রে গণতন্ত্রায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের দলের নেতা-কর্মীরা নেতা নির্বাচিত করলে নেতা-কর্মীদের প্রতি যে দায়িত্ববোধ থাকে, উপর থেকে চাপিয়ে দিলে সেটা থাকে না। আমরা চেষ্টা করছি। শুক্রবার আমাদের সহযোগী সংগঠন ড্যাব এর কমিটি হয়েছে সরাসরি কাউন্সিলের ভোটের মাধ্যমে। আমরা আশা করি আমাদের দল ও অঙ্গসংগঠনের এইভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে তারপরে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আমরা যদি সকলে সেই ভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে তাহলেই আন্দোলন সম্ভব। জনগণ প্রস্তুত আছে।

    সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ মো. ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন প্রমুখ।

    বিএম…