রংপুরে কলেজছাত্রী তন্দ্রা শ্লীলতাহানি ও আত্মহত্যা প্ররোচনার ৫ আসামীর কারাদন্ড

    রংপুর নগরীর রবার্টসনগঞ্জ মন্ডলপাড়া গ্রামে কলেজ ছাত্রী রুমানা আফরোজ তন্দ্রাকে শ্লীলতাহানি ও আত্মহত্যার প্ররোচনার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দীর্ঘ ২৪ বছর পর মামলার রায়ে ৫ আসামীকে ১৩ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছে আদালত।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে রংপুরের নারী শিশু নির্যাতন দম ট্রাইবুনালের বিচারক জাবিদ হোসেন জনার্কীর্ন আদালতে এ রায় ঘোষনা করেন।

    মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের ১ জুলাই তারিখে ঢাকার মীরপুরের আইডিয়াল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী রুমানা আফরোজ তন্দ্রা রংপুর নগরীর রবার্টসনগজ্ঞ মন্ডলপাড়া গ্রামে তার বাবার বাড়ির সামনে সন্ধার দিকে একটি দোকানে দিয়াশলাই কেনার জন্য গেলে দোকানের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা আসামী মানিক তন্দ্রাকে জাপটে ধরে।

    এ সময় তন্দ্রা চিৎকার দিলে আশে পার্শ্বের লোকজন এগিয়ে সামনে সকলের সামনে আসামী মানিক সহ তার সঙ্গিরা পুনরায় তন্দ্রাকে ঘাড়ে তুলে অপহরন করার চেষ্টা করে। এ সময় তার শ্লীলতাহানি করে। এরপর সে দৌড় দিয়ে বাসায় এসে একটি কুড়াল নিয়ে আসামীদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে।

    এ সময় আসামীরা তন্দ্রাকে মারধর করে পড়নের কাপড় ছিড়ে ফেলে এবং তার ওড়না কেড়ে নেয়। এ ঘটনায় লোক লজ্জার ভয়ে এবং ক্ষোভে অভিমানে তন্দ্রা বাড়ির ছাদে ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে।

    এ ঘটনায় তার মা মাসুদা চৌদুরী বাদী হয়ে আসামী মানিক, রতন, বাবলা, রানা ও মালেকা বেগমকে আসামী করে কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করে।

    তদন্ত করে পুলিশ আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জসীট দাখিল করে। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে মামলাটি বিচারের নামে বিলম্ব করা হয়। অবশেষে আজ দুপুরে জনার্কীর্ন আদালতে ৫ আসামীকে দোষি সাব্যস্ত করে ১৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন বিচারক।

    এদিকে সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনা কারী নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতের বিশেষ পিপি জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন বলেন, এই মামলাটি আসামীরা বিভিন্ন ভাবে বিচার বিলম্বিত করার চেষ্টা করেছে। তার পরেও ২৪ বছর পর বিজ্ঞ বিচারক তাদের সাজা দিয়েছেন বাদী পক্ষ ন্যায় বিচার পেয়েছে।

    বিএম/সোহেল রশীদ/রনী