রংপুর-রাজশাহীর কপাল পোড়া :দুর্ভোগ বাড়বে ঘরমুখো মানুষের

    সর্বক্ষেত্রে রংপুরবাসী বরাবরই সরকারের কাছে বঞ্চিত হয়ে আসছে। সেই একইভাবে এবার পবিত্র ঈদুল ফিতরেও বিশেষ ট্রেন থেকে বঞ্চিত হলো রংপুর বিভাগের বাসিন্দারা। এবার ঈদে রাজশাহীর ভাগ্যেও জোটেনি এই বিশেষ ট্রেন। যার ফলে দেশের এই বৃহৎ দুই বিভাগীয় শহর ট্রেন থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

    জানা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন রুটে আট জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। এই বিশেষ ট্রেন বিভাগীয় নগরী রংপুরের ভাগে একটিও পড়েনি। এছাড়া একমাত্র আন্তঃনগর রংপুর এক্সপ্রেসে বাড়তি কোন বগি লাগানোরও সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত হয়নি। ফলে রংপুরে ঈদ করতে ঘরে আসা এবং পুনরায় কর্মস্থলে ফিরে যাওয়া প্রত্যাশি মানুষগুলোর মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

    পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলওয়ে সূত্রে জানাগেছে, ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন রুটে আট জোড়া স্পেশাল ট্রেনের মধ্যে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটে এক জোড়া, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে দুই জোড়া, মৈত্রী রেক দিয়ে স্পেশাল হিসেবে চলবে খুলনা-ঢাকা-খুলনা রুটে।

    এ ছাড়া ঢাকা-ঈশ্বরদী-ঢাকা রুটে একটি, লালমনিরহাট-ঢাকা-লালমনিরহাট রুটে একটি, শোলাকিয়া স্পেশাল-১ ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার রুটে ঈদের দিন, শোলাকিয়া স্পেশাল-২ ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে ঈদের দিন স্পেশাল ট্রেন হিসেবে চলবে।

    ঈদের পাঁচ দিন আগে (৩১ মে) থেকে ট্রেনের কোনো ডে-অফ থাকবে না। এ সময়ে ৪৮টি বিশেষ ট্রিপ পরিচালিত হবে।

    রেল সূত্র জানায়, রংপুর এক্সপ্রেস, বরেন্দ্র এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস, নীলসাগরসহ ৪২ টি আন্ত নগর ট্রেন চলাচল করছে উত্তরাঞ্চলে। এসব ট্রেনে প্রতিদিন গড়ে ৪শ’ যাত্রী যাতাযাত করেন। প্রতিটি ট্রেনে কম পক্ষে বগি থাকে ৯টি। উত্তরাঞ্চলের এইসব ট্রেনে প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৭ হাজার যাত্রী রাজধানিসহ বিভিন্ন স্থানে যাতাযাত করেন। রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, ঈদ উপলক্ষে যাত্রী সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

    যাত্রীদের চাপ কমাতে উদ্যোগ নেয়া হয় বিশেষ ট্রেনের। কিন্তু এই বিশেষ ট্রেনের বরাদ্দের বেলা বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। অথচ রাজধানী ঢাকা থেকে ঈদ করতে ঘরে ফিরে বেশি উত্তরাঞ্চলের মানুষ। বিশেষ করে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার মানুষ।

    রংপুরের সাবেক এমপি ও বৃহত্তর রংপুর দিনাজপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুল বলেন, ১৬টি বিশেষ ট্রেনের মধ্যে কম পক্ষে ১ টি ট্রেন রংপুরে দেয়া উচিত ছিল। অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ স্বাচ্ছন্দে ট্রেনে চলাচল করতে পারতো। একটি বিভাগীয় হেডকোয়ার্টার হিসেবে রংপুরকে এভাবে বঞ্চিত করা উচিত হয়নি। এসময় তিনি রেল বিভাগের কাছে ট্রেন বৃদ্ধির দাবি জানান।

    শাহ ছালেক মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রংপুর ও রাজশাহীর মানুষের কপাল পোড়া। উত্তরাঞ্চলে দুটি বিভাগীয় শহর কিন্তু এর একটি রংপুর বিশেষ ট্রেনের আওতায় পড়েনি। রেলের এধরনের সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বলে তিনি জানান।

    রংপুর রেলস্টেশন সুপার শোভন রায় জানান, ঈদ উপলক্ষে রংপুরে এখন পর্যন্ত কোন বাড়তি কোন ট্রেনের সুবিধা পায়নি। রংপুর এক্সপ্রেসে এখন ৯ টি বগি নিয়ে চলাচল করছে। ঈদ উপলক্ষে আলাদা বগি বাড়ার সম্ভবনা ক্ষীণ।

    বিএম/সোহেল/রনী