ঠাকুরগাঁওয়ে ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি,এলাকাবাসীর বিক্ষোভে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে কৃষি কর্মকর্তা

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নে ইটভাটার কার্বন ডাই অক্সাইডসহ বিষাক্ত গ্যাসের কারনে প্রায় ৩০ একরেরও বেশি জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

সামা ব্রিকস নামক হাওয়া ভাটার কারনে ফসলের এ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

বুধবার সকালে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করলে ক্ষতিগ্রস্থ ফসলি জমি পরিদর্শনে যান সদর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন।

ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

সরেজমিনে দিয়ে দেখা যায়, ওই এলাকার প্রায় ২৫ একর ধানের জমি ও ৫ একরেরও বেশি জমিতে ভুট্টা , মরিচসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ নিয়ে এলাকার প্রায় ৫০ জন কৃষক বিক্ষোভ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করেছেন।

আব্দুল কুদ্দুস সহ একাধিক ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক অভিযোগ করে বলেন, ভাটার কারনে আমাদের ধানের ক্ষেত ও ভুট্টাসহ ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এখন তার সাথে যোগাযোগ করা হলে ব্যাপারটি সেভাবে আমলে নিচ্ছেন না।

এলাকাবাসী আরো জানান, এর আগেও গত ১৬-১৭ অর্থবছরে সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের পয়সাফেলা মৌজায় ইট ভাটা করে প্রায় ৪০ একর জমির ফসল নষ্ট করে এলাকাবাসীর বিক্ষোভে ভাটা সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় মালিক হুমায়ুন কবীর।

সদর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন জানান, বর্তমানে বেশিরভাগ ধানের শীষ ও ভুট্টার মোচা বের হয়েছে। কিন্তু ইটভাটা থেকে নির্গত এ্যামোনিয়া, কার্বন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনো অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইডসহ বিষাক্ত গ্যাসের কারনে ধানের শীষ, ভুট্টার মোচা, মরিচসহ বেশ কিছু ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের নামের তালিকা বিস্তারিত বর্ণনা সহ প্রস্তুতের কাজ চলছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে তালিকা প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, উল্লেখিত ভাটা মালিকের সাথে
যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা যেন শতভাগ তাদের ক্ষতিপুরণ পান সে বিষয়ে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।

এ ব্যাপারে সামা ব্রিকসের স্বত্তাধীকারী হুমায়ুন কবীর জানান, বিষয়টি শুনেছি। ভাটায় মিস্ত্রিদের অসর্তকতায় আগুনের চুলার মুখ খোলা থাকলে তাপ ছড়িয়ে কিছু ক্ষতি হতে পারে।

বিএম/গৌতম/রনী