চিনি, রঙ ও ডালডা সাদৃশ্য রাসায়নিক উপাদানে তৈরি হচ্ছে পাওডার
চট্টগ্রামে নকল ট্যাং তৈরির কারখানায় অভিযান

চট্টগ্রাম মেইল : প্রয়োজনীয় ল্যাব-উপাদান ছাড়াই চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানা এলাকায় তৈরি হচ্ছে মানহীন সফট ড্রিংকস পাউডার। দেশে সুপরিচিত ব্রান্ড ‘ট্যাং’ এর আদলে প্যাকেটজাত করে ইচ্ছেমতো মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ বসিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে এ খাদ্যপণ্যটি।

ঘনচিনির সাথে কাপড়ের রঙ সাথে ডালডা সাদৃশ্য রাসায়নিক (স্বাস্থ্যের ক্ষতিকারক) উপাদান মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে সফট্ ড্রিংকসের এ পাউডার।

এমনি একটি ভেজাল ট্যাং কারখানার সন্ধান পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম।

রাজাখালী এলাকার আলিফ টাওয়ার ও এসআলম বিল্ডিংয়ের ২য় তলায় ভেজাল এ শরবত পাউডার কারখানাটি সিলগালা করে দিয়ে নকল ট্যাং তৈরির মেশিনসহ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। তবে অভিযানকালে কারখানা মালিককে পাওয়া যায়নি ফলে তাকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

অভিযানে দেখা যায়, আলীফ টাওয়ারের তৃতীয় তলায় যে কক্ষগুলোতে কারখানাটি রয়েছে তার আশেপাশে সব ফ্যামিলি ও ব্যাচেলর বাসা। পাশ্ববর্তীরা জানিয়েছে মাত্র কয়েক মাস হয়েছে কক্ষগুলো ভাড়া নিয়ে এ সফট ড্রিংকস পাউডার তৈরির কারখানা শুরু করেছে। তবে এটি যে একটি কারখানা তাও জানতো না কারণ সাইনবোর্ড না থাকায় বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই ভেতরে কী হচ্ছে।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. ইলিয়াছ খান জানান, রমজান আসন্ন হওয়ায় ট্যাং পানীয় শরবতের চাহিদা অনেক বেড়ে যায় পাইকারী ও খুচড়া বাজারে। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে মুনাফালোভী কিছু অসাধু ব্যবসায়ি নকল ট্যাং পাওডার তৈরির কারখানা স্থাপন করে।

গোপন তথ্যে এমন একটি খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বাকলিয়া থানা এলাকার আলীফ টাওয়ারের অভিযান পরিচালনা করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

অভিযানে নকল ট্যাং তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। পাশাপাশি কারখানার শ্রমিকদের দেওয়া তথ্যমতে রাজাখালী এলাকার এসআলম বিল্ডিংয়ের ২য় তলার কারখানা থেকে প্রায় চার টন তৈরি পাউডার, ভেজাল চা পাতা, টেস্টিং সল্ট উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সাতকানিয়া উপজেলার দক্ষিণ রূপকানিয়া এলাকার নুরুল আলমের ছেলে মো. বদরুল আলম (২৯) এসব নকল কারখানা পরিচালনা করেন। রোজা শুরুর কয়েক মাস আগে পৃৃৃৃথক স্থানে কারখানা ও গুুুদাম ভাড়া নিয়ে ‘সুহা এন্টারপ্রাইজ’ নামে নকল ট্যাংপাউডার তৈরি করে বাজারজাত করে বদরুুল। গুুুুদামে ট্যাং পাউডার ছাড়াও সিয়াম চা, টেস্টিং সল্ট বাজারজাত করে আসছেন।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. ইলিয়াছ খান বলেন, অভিযানে কারখানা থেকে উদ্ধার হওয়া রাসায়নিক উপাদানগুলো পরীক্ষা করতে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। কারখানাটি সিলগালা করে কারখানা মালিক বদরুলকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।

বিএম/রাজীব সেন…