জোয়ারের পানিতে কক্সবাজারে ৩০ গ্রাম প্লাবিত

কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারে ফণী মোকাবেলায় সর্বোচ্চ সতর্ক এবং প্রস্তুতি নেয়া হলেও সেই তুলনায় কোন ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি। তবে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে গত দুই দিনে শুক্রবার ও শনিবার জোয়ারের পানি ৩-৪ ফুট বৃদ্ধি পেয়ে কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ উপকূলের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বিশেষ করে কুতুবদিয়া দ্বীপ, মাতারবাড়ি, ধলঘাটাসহ জেলার উপকুলীয় এলাকার ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ ও বেড়িবাঁধ উপড়ে সামুদ্রিক জোয়ারের পানি ঢুকে দ্বীপের ৩০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ফণি’র অতিক্রমের প্রভাবে কক্সবাজার উপকূলে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি ছাড়াও হালকা বর্ষণ এবং বাতাসের প্রবাহ শুরু হয়। অমাবশ্যার কারণে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়ছে বলে দাবি করেন জেলেরা।

কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় জানান, গত শুক্রবার ‘সন্ধ্যা হতে ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা বৃষ্টিপাত শুরু হয় দ্বীপ এলাকায়। আছরের নামাজের শেষে উপজেলার দুর্গম এলাকার দুর্যোগপ্রবণ এলাকার হাজারাধিক মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। বাকীদেরও প্রস্তুত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল করিম জানান, ‘বৃষ্টিপাত শুরু হলেও শুধুমাত্র রাজাখালী ও টেইটং থেকেই লোকজনকে দিনের আলোতে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। আর যেসব এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রের নিকটবর্তী সেসব এলাকার স্বেচ্ছাসেবক ও লোকজন নিজেরাই তৈরি হয়ে আছে। প্রয়োজন পড়লেই তারা নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরবে।

আরেক দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর সবচেয়ে দুর্যোগপ্রবণ এলাকা ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান কামরুল হাসান জানান, ‘বঙ্গোপসাগর বেস্টিত দ্বীপ ইউনিয়ন ধলঘাটার অধিকাংশ লোকজন আগেই চকরিয়া কিংবা কক্সবাজারে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। বাকি যারা রয়েছেন তারা আশ্রয় কেন্দ্রে যাবার পরিকল্পনায় প্রস্তুত রয়েছেন। ঝড়ো হাওয়ায় বৃষ্টি শুরু হলেও সংকেত স্বাভাবিক থাকায় তেমন আতঙ্ক নেই।’
মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সাগরদ্বীপ কুতুবদিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ি বাঁধ রয়েছে ৪০ কিলোমিটারের।

তন্মধ্যে ২৪ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধের এলাকা রয়েছে ভাঙ্গা। শনিবার ও শুক্রবার সকাল বেলার জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাঁধের এসব ভাঙ্গণ এলাকা দিয়ে ঢুকে পড়ে। কতুবদিয়া দ্বীপের প্লাবিত গ্রামগুলোর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা হচ্ছে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের পশ্চিম তবলর চর, আনিসের ডেইল, আমজাখালী, বড়ঘোপের মুরালিয়া, আজম কলোনী, উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের কালার পাড়া, আকবর বলীর ঘাট সহ আরো কয়েকটি। অপরদিকে সেন্টমার্টিন্স দ্বীপ, মহেশখালী ও সেনাদিয়া দ্বীপের অবস্থাও স্বাভাবিক রয়েছে।

বিএম/ইসলাম/রাজীব..