রমজানে ভেজাল বিরোধী অভিযান জোরদার করার আহবান সুজনের

চট্টগ্রাম মেইল : পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, ভেজাল, নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পন্য উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান জোরদার আহবান জানিয়েছেন জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

আজ ৫ মে রবিবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এর সাথে তাঁর কার্যালয়ে মত বিনিময় সভায় তিনি এ আহবান জানান। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং তা থেকে পরিত্রানের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মপন্থা নির্ধারনের জন্যও বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

খোরশেদ আলম সুজন বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জোর মনিটরিংয়ের ফলে সাধারণ জনসাধারনকে দ্রব্যমূল্যের ভৌতিক মূল্য বৃদ্ধির উৎপাত থেকে রেহাই দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহন করেছে। এর জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং বানিজ্য মন্ত্রীকে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মারফত কৃতজ্ঞতা জানান। বলেন, ইতিমধ্যে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের ফলে প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক হারে ভেজাল খাদ্য দ্রব্যাদি জব্দ করা হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানিয়ে রমজানে চাল, ডাল, চিনি, তেল ও ছোলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানীমূল্য এবং বিক্রয়মূল্য যাচাই করার কথা বলেন খোরশেদ আলম সুজন। বলেন, প্রতিবছর রমজান মাস আসলেই একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী গণনিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করে অযথা জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে। আমদানীমূল্য বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন চার্জের অজুহাতে অসাধু ব্যবসায়ীদের দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করা একরকম নিয়মেই পরিণত হয়েছে। পাইকারী বাজারের সাথে খুচরা বাজারের দামের কোন সমন্বয় নেই।

বলেন, ফুটপাতের পাশের দোকান থেকে শুরু করে অনেক নামী দামী প্রতিষ্টানও ভেজাল খাদ্য দ্রব্য সরবরাহ করছে। যার ফলে জনগন ভেজাল খাদ্য দ্রব্য গ্রহন করে কিডনী, লিভার, ফুসফুসসহ দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। বিভিন্ন রেষ্টুরেন্ট প্রতিনিয়তই পঁচাবাসী এবং খাওয়ার অযোগ্য খাবার খাওয়াচ্ছে ভোক্তাদের। তিনি ভেজাল অভিযানে জব্দকৃত খাদ্য সামগ্রী ধ্বংসের পাশাপাশি এসব খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন এবং বিপণন কারীর নাম ও ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ করার আহবান জানান।

সুজন বলেন, সম্প্রতি বিএসটিআই বাজার থেকে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করে বেশ কিছু ব্র্যান্ডের ভেজালপণ্য চিহ্নিত করেছে। এসব পণ্যের মধ্যে বিভিন্ন নামী দামী ব্র্যান্ডের পণ্যও রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনো ঐসব পণ্য বাজারে প্রদর্শন করা হচ্ছে এবং ভোক্তাগণও নিজের অজান্তে এসব পণ্য ব্যবহার করছে। তিনি সমন্বিতভাবে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসককে অনুরোধ জানান। তবে জনমনে শংকা কিংবা ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয় এমন অভিযান পরিচালনা না করার জন্য ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

অতিসত্বর বিভিন্ন বাজার থেকে বিএসটিআই পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমানিত ভোজ্যতেলসহ সকল প্রকার পণ্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানী ও তাদের পাইকারী ও খুচরা পরিবেশকদের প্রতি আহবান জানিয়ে পাইকারী এবং খুচরা বাজারের বিভিন্ন প্রবেশ মুখে দ্রব্যমূল্যের দাম উন্মুক্ত স্থানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা নিতে বলেন।

ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন দৃঢ়তার সাথে এসব চিহ্নিত সমস্যাগুলো শুনেন এবং বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ভেজাল বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে দফায় দফায় সভা করে আমাদের কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমাদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ প্রতিনিয়তই ভেজাল বিরোধী কর্মকান্ড পরিচালনার মাধ্যমে ভেজাল খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন এবং পরিবেশনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। আসন্ন রমজান মাসে এ অভিযান আরো জোরদার করা হবে।

থানাওয়ারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণকে দায়িত্ব অর্পন করা হয়েছে যারা পুরো রমজানমাস জুড়ে নগরীতে ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করবেন। তিনি বলেন, জনগনকে সাথে নিয়ে জনহিতকর সকল কার্যক্রমে আমাদের সক্রিয় অংশ গ্রহন থাকবে।

তিনি ব্যবসায়ীদের সরকারের নিয়ম কানুন মেনে ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করার আহবান জানিয়ে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ব্যবসা বান্ধব সরকার। এই সরকার প্রতিনিয়ত ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে। নিত্য নতুন ব্যবসা কার্যক্রমে উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে। সুতরাং এই সরকার ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয় সেরকম কোন কার্যক্রম পরিচালনা করবেনা। ব্যবসায়ীরা যাতে সৎভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে সেজন্য প্রশাসনের সকল প্রকার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তবে অসৎ ব্যবসায়ীদের কোন প্রকার সহযোগিতা না করার জন্য তিনি সর্বস্তরের ব্যবসায়ীগণের নিকট আহবান জানান।

এছাড়া জনসাধারণকে সচেতন থেকে ভেজালখাদ্য দ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকারও অনুরোধ জানান। তিনি নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দকে এ ধরণের জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণের নামের তালিকা এবং অভিযানের সময় সূচী নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দের নিকট হস্তান্তর করেন। এছাড়া ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দকে ভেজাল বিরোধী কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থেকে জনসাধারনকে সচেতন করার আহবান জানান।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এডিসি জেনারেল কামাল হোসেন, সংগঠনের সদস্য সচিব হাজী হোসেন কোম্পানী, সমাজসেবী আব্দুর রহমান মিয়া, এজাহারুল হক, মোঃ শাহজাহান, জাহেদ আহমদ চৌধুরী, সমীর মহাজন লিটন, সোলেমান সুমন, অনির্বান দাশ বাবু, শেখ মামুনুর রশীদ, জাহাঙ্গীর আলম, স্বরূপ দত্ত রাজু, রকিবুল আলম সাজ্জী, সরওয়ার্দী এলিন, নগর ছাত্রলীগ সভাপতি এম ইমরান আহমেদ ইমু, মাহফুজ চৌধুরী, মনিরুল হক মুন্না, শুভ চক্রবর্ত্তী, হাসান মুরাদ প্রমূখ।

বিএম/রাজীব সেন..