পচা সিরকায় বনফুলের মিষ্টি আর পঁচা ডিমে তৈরি বিস্কুট-কেক, আমরাই খাচ্ছি

চট্টগ্রাম মেইল : সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামেও মিষ্টি ও ফুড বেভারেজের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছে বনুফুল ও মধুবন। দুটো প্রতিষ্ঠানেই ক্রেতারা অন্ধের মতোই তাদেরকে বিশ্বাস করে তাদের তৈরি খাদ্য পণ্য কিনে আসছেন। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন স্বুস্বাধু সব খাবারের নামে আসলেই কি খাচ্ছেন? না কেউই ভাবেনি।

সবারই মনে ধারণা ছিল নামি দামি প্রতিষ্ঠান দুটোতে কোন রকম ভেজাল হবেনা। খাদ্য পণ্য প্রস্তুত হবে স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশেই। তাদের পরিবেশনও হবে বিশ্ব মানের। কিন্তু সাধারণ ক্রেতাদের ধারণা পাল্টে দিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র‌্যাব) ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১১ মে) বিকেলে পরিচালিত পৃথক দুটি অভিযানে উঠে আসে ধারণা পাল্টে দেওয়ার মত অনেক তথ্য। নগরের বায়েজিদে বনফুলের কারখানায় অভিযানে যায় র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আখতারুজ্জামান। অভিযানে গিয়ে সেখানে দেখা যায়, চার পাঁচদিনের পুরনো পঁচা সিরকা সংরক্ষণ রেখেছে পুনরায় মিষ্টি তৈরির লক্ষ্যে । অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি মিষ্টিতে ব্যবহার হচ্ছে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপকরণ। প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয় চার লাখ টাকা।

একই দিন একই টিম দেশের আরো একটি নামী ব্রান্ডের মিষ্টি ও বেভারেজ তৈরির কারখানায় হানা দেন। নগরীর হামজারমাগ এলাকায় মধুবনের কেক-বিস্কুট তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র‌্যাব) ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আখতারুজ্জামান। এ অভিযানেও চোখে পড়েছে খাদ্যে ভেজাল ও অনিয়ম। মূলত পচা ডিম ও বাসি পামওয়েল দিয়ে কেক ও বিস্কুট তৈরির সত্যতা পায় র‌্যাব। কারখানা মালিককে জরিমানা করা হয় ২ লাখ।

দুটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে জরিমানার বিষয়টি স্বীকার করে র‌্যাব-৭ এর মিডিয়া অফিসার এএসপি মো. মাশকুর রহমান জানান,চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে জনসাধারণকে ঠকানোর উদ্দেশ্যে মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ ও অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে উৎপাদন করে বিক্রয় করছে এমন তথ্য ছিল। তথ্যমতে ‘‘বনফুল এন্ড কোম্পানী’’ এবং ‘‘মুধুবন ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরী লিঃ’’ প্রতিষ্ঠান দুটিরে কারখানায় র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আখতারুজ্জামানের নের্তৃত্বে অভিযানে নামে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ থানাধীন এলাকায় বনফুল এন্ড কোম্পানীর কারখানায় পরিচালিত অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ, বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যে উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ না থাকা, মিষ্টি রাখার টবে মরা মাছি পড়ে থাকা, দই তৈরির কম্বল অত্যান্ত নোংরা, ফিনিশিং পন্য ফ্লোরে প্যাকিং করা, স্টোরেজ ফ্লোর স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থায় থাকা এবং কর্মরত শ্রমিকরা কোন ধরনের গ্লাভ্স পরিধান না করাসহ নানা অনিয়ম ধরা পড়ে। নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এর ৩৩ এবং ৫৮ (৪) ধারা মোতাবেক বনফুল এন্ড কোম্পানী’কে ৪ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।

পরে নগরীর হামজারমাগ এলাকায় মধুবনের কেক-বিস্কুট তৈরির কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে একই টিম। সেখানে অপরিচ্ছন্ন, পঁচা ডিমও নষ্ট পাম অয়েল দিয়ে বিস্কুট উৎপাদন করছে, সেমাইয়ের টব খোলা অবস্থায় এবং ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল ট্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখাসহ বিভিন্ন অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এসব অপরাধে মধুবন ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরী লিমিটেড’কে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। তাছাড়া দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ও নোংরা খাদ্যদ্রব্য ৬৫ কেজি নোংরা মিষ্টি, ২১ কেজি দই, ১.৫ টন লাচ্ছা সেমাই, ৭৫ কেজি মেয়াদ উত্তীর্ণ বিস্কুট, ৫২ কেজি ময়দা, ৮শ পিস কাপ কেক, ৮০ পিস নোংরা কম্বল, ৭শ ৫০ পিস নষ্ট ডিম, ৫০ লিটার তরল ডিম, ১৬০ লিটার পাম অয়েল, ৫২ লিটার ভিনেগার এবং ৪৫০ পিস খালি প্যাকেট জব্দ করা হয়।

পরবর্তীতে জব্দকৃত আলামত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট, র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর, কুর্মিটোলা, ঢাকা এর উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানে র‌্যাব-৭ এর চান্দগাঁও ক্যাম্পে কর্মরত র‌্যাবের কর্মকর্তা, ভোক্তা অধিকার ও বিএসটিআই এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন জানিয়ে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৭ এর মিডিয়া অফিসার এএসপি মো. মাশকুর রহমান।

বিএম/রাজীব…