বীরমুক্তিযোদ্ধা কমরেড মনসুরুল আলম চির নিদ্রায় শায়িত

চির বিপ্লবী বীরমুক্তিযোদ্ধা কমরেড
মনসুরুল আলম সকলকে কাঁদিয়ে চির নিদ্রায় চলে গেলেন।

তিনি গতকাল শনিবার ঢাকায় রাত ১০টায় হৃদযন্ত্রে ক্রীয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবিবার দুপুর ২.৩০টায় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ
উপজেলা শহীদ মিনারে হাজার হাজার মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন, গার্ড অফ অনার প্রদান ও জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন কার্য
সম্পন্ন করা হয়।

কমরেড মনসুরুল আলম

মনসুরুল আলম আপাতমস্তক প্রগতিশীল রাজনীতিক। ছাত্রাবস্থায় প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু হলেও দিনাজপুর
এস,এন কলেজে থেকে ১৯৭২ সালে এইচএসসি পাশ করেন।

তিনি ১৯৪৪ সালে ১ ডিসেম্বর পীরগঞ্জ থানার মিত্রবাটী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মৃত সমির উদ্দিন আহমেদ ও মাতা সুখীজান নেছা।

তিনি পিতা-মাতার ৮ সন্তানের মধ্যে ৩য় সন্তান।

ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি ১৯৬৪ সালে কৃষক সমিতির সদস্য হন। ১৯৬৭ সালে
দিনাজপুর জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশ স্বাধীনের জন্য শক্রর উপর ঝাঁপিয়ে  পড়েন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি করা শুরু করেন এবং উপজেলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক পদ নির্বাচিত হন। পার্টি বিভক্ত হয়ে গেলে মূল স্রোতের যে চৌদ্দজন ছিলো তাদের মধ্যে তিনিও একজন ছিলেন।

তিনি ১ বছরের জন্য রাজনৈতিক শিক্ষা সফরে বুলগেরিয়ায় গিয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে উপজেলা কমিটির সভাপতি পদ গ্রহন করে আজও সে পদেই বহাল আছেন। এ ছাড়া তিনি জেলার কৃষক সমিতির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কৃষক সমিতির সদস্য (২০১৫)। ১৯৯২ সালেও তিনি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৩ বার অংশগ্রহন করেছেন।

পীরগঞ্জ গার্লস স্কুল, পাবলিক লাইব্রেরি, পীরগঞ্জ মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অন্যতম অবদান রাখেন।

এছাড়াও তিনি আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

কমরেড মনসুরুল আলমকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, সিপিবি ঠাকুরগাঁও জেলা সংসদ, দিনাজপুর জেলা সংসদ ও পীরগঞ্জ উপজেলা শাখা,
আওয়ামীলীগ ঠাকুরগাঁও জেলা ও উপজেলা শাখা, ওয়ার্কসপার্টি জেলা শাখা, উদীচী সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

বিএম/গৌতম