নড়াইলে ঈদে উপলক্ষে তৈরি হচ্ছে জনপ্রিয় ক্ষীরের সন্দেশ

    নড়াইল জেলা প্রতিনিধি■ নড়াইলে ঈদে উপলক্ষে তৈরি হচ্ছে জনপ্রিয় ক্ষীরের সন্দেশ! প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নড়াইলের তৈরি হচ্ছে ক্ষীরের সন্দেশ।

    ডিজিটাল সময়ে এসে এই মিষ্টি যুক্ত হয়েছে ই-কমার্সে। প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ কেজি ক্ষীরের সন্দেশ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে ই-কমার্সের বদৌলতে। ক্ষীরের সন্দেশ প্রতি কেজি তিন শ থেকে পাঁচ শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাহা সুইটসের পাশাপাশি মিষ্টির কারিগররা নানা প্রস্তুতি নিয়েছেন।

    আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, নড়াইলের লক্ষ্মীপাশা গ্রামের সচীন্দ্রনাথ সাহার হাতে ১৯৬৯ সালে যাত্রা শুরু হয় ক্ষীরের সন্দেশের।

    বর্তমানে সাহা সুইটসের মিষ্টির মধ্যে অন্যতম হলো ক্ষীরের সন্দেশ। সচিন্দ্রনাথ সাহা তাঁর জীবদ্দশায় নানাপদের মিষ্টি তৈরি করে দেশ-বিদেশের খ্যাতি অর্জন করেছেন।

    ২০০০ সালে তাঁর মৃত্যুর পর হাল ধরেন তাঁর স্ত্রী নমিতা রানী সাহা। তিনিও স্বামীর মতোই তৈরি করেছেন এই মিষ্টি। দাদা-দাদির সূত্রধরে ২০১৫ সালে ব্যবসার হাল ধরেন সচিন্দ্রনাথ সাহার নাতি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার অভিজিৎ সাহা (অভি)।

    তিনি বলেন, ‘মানুষের মুখে সেই স্বাদ পৌঁছে দিতে চাই, যে স্বাদের কথা বহুদিন মনে থাকবে। প্রজম্মের পর প্রজন্ম দাদুর মতো মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার জন্যই এই পেশায় আমি।’

    নড়াইলের লক্ষ্মীপাশা খেয়াঘাটের ব্যবসায়ী সেলিম জানান, পরীক্ষা করে দুধ কেনেন অভিজিৎ সাহা। দুধ থেকে ছানা তৈরি করা হয় এবং সেই ছানায় মেশানো হয় পরিমাণ মতো চিনি। তারপর সেটিকে আগুনে জ্বালিয়ে তৈরি করা হয় সন্দেশ। এবার সেটিকে ছাঁচে বসানো হয়। তারপর সাদা সন্দেশের ওপর দেওয়া হয় খয়েরি রঙের ক্ষীরের প্রলেপ। পাঁচ কেজি সন্দেশের জন্য আট কেজি দুধের ক্ষীর লাগে। আট কেজি দুধ জাল দিতে যে ক্ষীরটা হয় সেটা। আট কেজি দুধ থেকে পাঁচ শ গ্রামের মতো ক্ষীর তৈরি করা হয়। দেখতে যেমন দৃষ্টিনন্দন খেতেও তেমনি সুস্বাদু। ঈদ, পূজা, বিয়েসহ সামাজিক অনুষ্ঠানে সাহা সুইটসের ক্ষীরের সন্দেশের ব্যাপক চাহিদা। অতিথি আপ্যায়নে এই মিষ্টির জুড়ি নেই। ক্ষীরের সন্দেশের পাশাপাশি অভিজিৎ সাহার তৈরি নলেন গুড়ের সন্দেশও বেশ জনপ্রিয়।

    বিএম/ইউআর/এমআর