রংপুরে ৫ বছর ধরে রাস্তার কাজ বন্ধ থাকায় জনগণের ভোগান্তি

    রংপুর প্রতিনিধি : রংপুর নগরীর ৬ নং ওয়ার্ডের চব্বিশহাজারী পূর্বপাড়া গ্রামে ২০১৪ সালে শুরু হওয়া রাস্তা পাকা করণ কাজ দীর্ঘ ৫ বছর ধরে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী প্রায় সাত হাজার মানুষ।

    এই গ্রামের কোনো বাসিন্দা অসুস্থ হলে তাকে কোনো যানবাহনে করে হাসপাতালে নেওয়ার উপায় নেই। এনিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে।

    তবে কাউন্সিলর জানিয়েছেন আগামী জুন মাসে পুনরায় টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তাটির করুণ চিত্র। দেখে বোঝার উপায় নেই এটি রাস্তা নাকি কৃষকের চাষ দেওয়া জমি।

    জানাগেছে, ২০১৪ সালে এই রাস্তাটি পাকাকরণ কাজ শুরু হয়। দেড় কিলোমিটার রাস্তায় ইটও বসানো হয়েছেল। কিন্তু অদৃশ্য কোনো এক কারণে রাস্তাটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রাস্তার ইট হারিয়ে সেখানে এখন হাটু পরিমাণ কাঁদাপানিতে মাখামাখি।

    পূর্বপাড়া গ্রামের নুরুল মিয়া ও বাকীরুল হক বলেন, গত পাঁচ বছর থেকে রাস্তাটির বেহাল দশা হলেও সংস্কারের কোন উদ্যাগ নেয়া হয়নি। ফলে গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ নিত্যদিনের হলেও দেখার কেউ নেই।

    স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটুপানি ও কাঁদায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। তখন এই রাস্তাটিকে দূর থেকে দেখলে মনে হবে এটি কোনো খাল বা নদী। বেহাল এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে সাত হাজার মানুষ চলাচল করে। রাস্তার পাশেই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষার্থীরাও চরম ভোগান্তির মধ্যে যাতায়াত করছে।

    তারা আরও জানান, গ্রামের মানুষ অসুস্থ্য হলে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা অটোতে করে রোগী হাসপাতালে নেওয়ার উপায় নেই। রোগীকে প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁধে কিংবা পিঠে বহন করে চব্বিশহাজারী প্রধান সড়কে নিয়ে গিয়ে যানবাহনে তুলতে হয়। এ ছাড়া প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে মানুষ চলাচল করছে।

    এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য স্থানীয় কাউন্সিলর মনোয়ারুল ইসলাম লেবুর কাছে কয়েকবার আবেদন করেও কোনো ফল হয়নি বলে গ্রামবাসীর অভিযোগ।

    রংপুর সিটির ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনোয়ারুল ইসলাম লেবু বলেন, বিগত ২০১৪ সালে রাস্তা পাকা করণ কাজ শুরু হয়। ঠিকাদার ওই রাস্তার কাজ একজন সাব ঠিকাদারকে দেয়। সাব ঠিকাদার রাস্তায় ইট বসায়। কিন্তু ঠিকাদার সাব ঠিকাদারকে টাকা না দেওয়ায় সে কাজ ছেড়ে পালিয়ে যায়। ফলে ওই ঠিকাদারের কাজ বাতিল করা হয়। এর পর থেকে রাস্তাটির বেহাল দশা।’ আগামী জুন মাসে ওই রাস্তার কাজের পুনরায় টেন্ডার করা হবে বলেও জানান তিনি।

    বিএম/সোহেল রশীদ/রনী