বেনাপোল এক্সপ্রেস’র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন এবং বর্ধিত ট্রেন বেনাপোল-ঢাকা-বেনাপোল রুটে আন্তঃনগর ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ট্রেনের উদ্বোধন করেন।

বুধবার (১৭ জুলাই) বেলা সোয়া ১২টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সবুজ পতাকা উড়িয়ে এবং বাঁশি বাজিয়ে প্রধানমন্ত্রী ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করেন। এছাড়া ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের বর্ধিত রুটের উদ্বোধনও করেন তিনি।

বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামান ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বেনাপোল এক্সপ্রেস

একই সাথে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-রাজশাহী-চাপাইনবাবগঞ্জ রুটে বিরতিহীন আন্তঃনগর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনও উদ্বোধন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে রেলপথ উন্নত করা হয়েছে। আগামীতে যাতায়াত ব্যবস্থায় আরও গতিশীলতা আনতে বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চালু করা হবে।

তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করে মানুষের সেবা করাই আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য। এ জন্য সর্বোচ্চ সেবা মানুষের ঘরে পৌঁছে দিতে চেষ্টা করে যাচ্ছে সরকার।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের এ গুরুত্বপূর্ণ দুই অঞ্চলের মানুষের চাওয়ার প্রেক্ষিতে নতুন ট্রেন চালু করা হলো।
তিনি বলেন, ঈদের আগে ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দুই অঞ্চলের মানুষের জন্য সরকারের উপহার। এর ফলে পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন সহজ হবে, অন্যদিকে উত্তরের চাপাইনবাবগঞ্জের আম সারাদেশে ও বিদেশে সহজে রপ্তানি করা যাবে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া বিভিন্ন ব্রিজ ও কালভার্ট সে সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সহযোগীতায় তা মেরামত করার চেষ্টা করেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় পর আমরা রেলের যে উন্নয়ন করেছিলাম, তা বিএনপি জোট সরকারের আমলে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি তারা রেলের উন্নয়ন নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছিল।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে যে সকল জেলায় কখনো রেল ব্যবস্থা ছিল না, সেগুলোতেও নতুন রেল ব্যবস্থা চালু করেছে বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জল হোসেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে রেলপথ উন্নয়নের উপর একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

রেল মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন ট্রেনের ব্যবহৃত ব্রডগেজ কোচসমূহ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এর অর্থায়নে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য মিটারগেজ ও ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ইন্দোনেশিয়া হতে সংগৃহীত হয়েছে।

দ্রুতগতির বিরতিহীন আধুনিক এ ট্রেন পরিচালনার ফলে বেনাপোল-ঢাকা-বেনাপোল রুটে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণের নিরাপদ আসা-যাওয়া সহজতর, দ্রুততর ও আরামদায়ক হবে।

সংগৃহীত কোচসমূহের অন্যতম নতুন বৈশিষ্ট্য হল- বায়ো-টয়লেট সংযোজন। ট্রেনটিতে প্রতিবন্ধী যাত্রিদের হুইল চেয়ারসহ চলাচলের সুবিধার্থে থাকছে প্রশস্ত দরজা (মেইন ও টয়লেট দরজা) এবং নির্ধারিত আসনের সুবিধা। প্রতিটি কোচ স্টেইনলেস স্টীলের তৈরী এবং অত্যাধুনিক যাত্রি সুবিধা স্বম্বলিত। প্রতিটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচে আধুনিক ও উন্নতমানের রুফ মাউন্টেড এয়ার কন্ডিশনার ইউনিট এবং এয়ার কার্টেইনের ব্যবস্থা রয়েছে।

যাত্রী সাধারণের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত চেয়ার, বার্থ, স্টেয়ার, পার্সেল রেক, টিভি মনিটর হ্যাঙ্গার, ওয়াই-ফাই রাউটার হ্যাঙ্গার, মোবাইল চার্জার এর ব্যবস্থা রয়েছে। ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ১২ টি কোচ দ্বারা চলবে।

ট্রেনটিতে এসি সিট, এসি চেয়ার ও শোভন চেয়ার শ্রেণীর সর্বমোট ৮৯৬টি (৭৯৫ নং ট্রেনের ক্ষেত্রে) এবং এসি বার্থ, এসি চেয়ার ও শোভন চেয়ার শ্রেণীর সর্বমোট ৮৭১টি (৭৯৬ নং ট্রেনের ক্ষেত্রে) আসনের ব্যবস্থা থাকবে।

বেনাপোল ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন (৭৯৫) বুধবার ও (৭৯৬) বৃহস্পতিবার। ট্রেনটি বেনাপোল থেকে ছাড়বে দুপুর ১ টায়, ঢাকা পৌছাবে রাত ৯ টায় এবং ঢাকা থেকে ছাড়বে রাত ১২: ৪০ মিনিটে, বেনাপোল পৌঁছাবে সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিটে।

‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেনের এটেনডেন্ট ও ক্যাটারিং সেবা বাংলাদেশ রেলওয়ের নিজস্ব কর্মচারী দ্বারা পরিচালিত হবে। এ ট্রেনের ১০% নন-স্টপ চার্জসহ ভাড়া প্রযোজ্য হবে। বেনাপোল- ঢাকা পর্যন্ত উভয় দিকে যাত্রী ভাড়াঃ শোভন চেয়ার-৫৩৪ টাকা, এসি চেয়ার-১০১৩ টাকা (ভ্যাটসহ), এসি সিট-১২১৩ টাকা (ভ্যাটসহ), এসি বার্থ-১৮৬৯ টাকা (ভ্যাট+বেডিং চার্জসহ)।

বিএম/এমআর