২২ বছর পানি টেনে সংসার চালান সীতাকুণ্ডের আমির আলী

কামরুল ইসলাম দুলু, সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি : কাজ না করলে খাবো কি, চুরিতো আর করতে পারবো না কাউকে ঠকিয়েও চলতে পারবো না! সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে দোকানে পানি দিয়ে যে টাকা পাই সেটা দিয়েই সংসার চালাই- কথাগুলো আমির আলীর।

বয়স ৫০ ছুঁই ছুঁই। দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর যাবত পানি টেনেই সংসার চালান তিনি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে অথবা প্রচন্ড কড়া রোদেও সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়ের বার আউলিয়া এলাকায় বিভিন্ন দোকানে দোকানে ড্রাম ভর্তি করার লক্ষ্যে পানি টানেন। দোকানদারের চাহিদা অনুযায়ী পানি সরবরাহ করতে হয়। কোনো দোকানে টিউবওয়েলের পানি আবার কোথাও খালের পানি দেন।

ফুলতলা গ্রামের মৃত সোলায়মান আলীর পুত্র আমির আলীর ২ ছেলে ৩ মেয়ের সংসার। টানাপোড়নের সংসারে ছেলে আকবর (১৮), রাজু আহম্মদ, (১৪) অভাবের কারণে পড়ালেখা করাতে পারেনি। তবে মেয়ে সোমাইয়া আক্তার ক্লাস ওয়ানে ও রেশমা আক্তার ৭ম শ্রেণীতে পড়ালেখা করছে।

আমির আলী জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে পানি বিক্রি করে। বার আউলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে থাকা টিউবওয়েল থেকে ঘাড়ে করে পানি নিয়ে তা হোটেলসহ বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করেন। ১৫ টাকা করে প্রতি ভার পানি বিক্রি করে দৈনিক তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ টাকা আয় করেন।

আমির আলী বলেন, ঝড়-বৃষ্টি, তুফান যতই প্রাকৃতিক দুর্যোগ হোক ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই, কারণ পানি না টানলে খাবো কি? ঘরে বসে থাকলেতো কেউ একবেলা খাওয়াবেনা। যতক্ষণ পরিশ্রম করবো ততক্ষন খেতে পারবো। পানি বিক্রি করে সংসারের ঘানি টেনে কোন রকমে বেঁচে আছি।

আমির আলীর নিজস্ব কোন জায়গা নেই। রাস্তার পাশে সরকারী খাস জায়গাতে ছোট্ট একটি ঘর তৈরি করে সেখানে বসবাস করছেন।

বিএম/রাজীব সেন..