বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক উন্নয়ন প্রশংসনীয়

চট্টগ্রাম মেইল : ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী অনিন্দ্য ব্যানার্জি বলেছেন, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ঝুঁকি অনেকটা মোকাবেলা করতেও সক্ষম হচ্ছে-এত সবকিছু অর্জন সম্ভব হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের পরিশ্রমের ফলে। গতকাল ২৪ জুলাই বুধবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের পিএইচপি ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে অনিন্দ্য ব্যানার্জী বলেন, আমি পেশাগত কারণে প্রথমবারের মতো ১৯৯০ সালে ঢাকায় এসে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ছিলাম। দীর্ঘ ২১ বছর পর গত ২০১৭ সালে আমি কোলকাতা থেকে চট্টগ্রামে আসি। ইতোমধ্যে সহকর্মীদের কাছ থেকে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্পর্কে শুনেছি। কিন্তু ভাবিনি এতো উন্নয়ন হয়েছে।

আপনারা ধারাবাহিকভাবে দেখার কারণে বাংলাদেশের উন্নয়ন হয়তো আপনাদের চোখে পড়ছে না, কিন্তু আমার মতো যাঁরা কয়েক বছর পর আসেন, তাঁদের কাছে ঠিকই তা স্পষ্ট বুঝা যায়। বাংলাদেশ আরো উন্নতি করুক-এই আশা করি। আমি বাংলাভাষী হিসেবে বাংলাদেশের এতো উন্নয়নে গর্ববোধ করি ।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাসের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় শ্রী ব্যানার্জি চট্টগ্রামের সংস্কৃতি খুবই সমৃদ্ধ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের আবৃত্তি খুব উচ্চ মানের। কোলকাতার ভালোমানের আবৃত্তিকারদের সাথে তুলনা করলেও বোধ হয় অত্যুক্তি হবে না। এছাড়া সংগীত, ড্রইংসহ সাংস্কৃতির অন্যান্য দিকগুলো নিয়েও তিনি প্রশংসা করেন।

ভারতীয় হাইকমিশন ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ বেশ কয়েকটি স্থানে যৌথভাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আগামী ২৯ জুলাই চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটে সহকারী হাই কমিশন অব ইন্ডিয়া, চট্টগ্রাম এবং ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার ঢাকা আয়োজিত মালহার ফ্যাস্টিভালে আগ্রহীদের আমন্ত্রণ জানান সহকারী হাইকমিশনার। এছাড়া শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ছাত্রদেরও ভারতে স্কলারশীপের জন্য আবেদন করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে সহকারী হাইকমিশনার বলেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের অনেক মুক্তিকামী দেশপ্রেমীর সাথে সাথে ভারতের অনেক সেনাবাহিনীও জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন। তখন বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে ভারত সরকার আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায় করেছেন।

ভিসাপ্রাপ্তির বিষয়ে জনাব ব্যানার্জী বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রামে ভিসাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে আগের মতো আর কোনো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। এখন দীর্ঘ লাইনও নেই, ঝামেলাও নেই। ইতোমধ্যে কুমিল্লা, নোয়াখালী এবং ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় আলাদা আলাদা ভিসা সেন্টার চালু করার কারণে চট্টগ্রামের নাগরিকরা এ সুবিধা ভোগ করছেন। ভিসা প্রদানের হিসাব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে বাংলাদেশী নাগরিকদের নামে ১ লক্ষ ৪০ হাজার, ২০১৭ সালে ১ লক্ষ ৬০ হাজার, ২০১৮ সালে ১ লক্ষ ৮৯ হাজার ভিসা ইস্যু করা হয়েছে।

চলতিবছর এই হার ২ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে। তবে কোনো ভুয়া কাগজ কিংবা ভুয়া তথ্য না দিয়ে প্রয়োজনে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থেকে লিখিত ডকুমেন্ট সংযুক্ত করলে ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।

ভারতের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রেস ক্লাব সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাস তা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একইসাথে চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের ভারতে প্রশিক্ষণ কর্মশালাসহ পেশাগত মানোন্নয়নে অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে ভারতীয় দুতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেন।

মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী।

যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, বিএফইউজে’র সাবেক সহ-সভাপতি শহীদ উল আলম, চট্টগ্রাম সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটির চেয়ারম্যান স্বপন মল্লিক, প্রথম আলোর যুগ্ম বার্তা সম্পাদক ওমর কায়সার, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যুরো প্রধান সমীর কান্তি বড়–য়া। এসময় চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কলিম সরওয়ার, প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি মনজুর কাদের মনজু, অর্থ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, গ্রন্থাগার সম্পাদক রাশেদ মাহমুদ, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী, কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম, স ম ইব্রাহীম, মোহাম্মদ আলী, কাজী আবুল মনসুর’সহ সিনিয়র সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএম/রাজীব..