চট্টগ্রাম জেলায় তিন মামলায় গ্রেফতার ৭
গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনির দৃশ্য ভিডিও ধারণ ও শেয়ার হলে ব্যবস্থা-মিনা

চট্টগ্রাম মেইল : ছেলে ধরা ও পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে এমন গুজব ছড়িয়ে সারাদেশে গণপিটুনির বেশ কয়েকটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর কঠোর অবস্থানে যায় প্রশাসন। ছেলে ধরা, মাথা কাটা, গণপিটুনিসহ বিভিন্ন গুজব/অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ে সকলকে সচেতন করার লক্ষ্যে বিশেষ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর দুই নম্বর গেইট এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা গুজব রটনাকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে বলেন, সারাদেশে গণপিটুনির ঘটনায় বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১শ জনেরও বেশি গ্রেফতার হয়েছে।

বলেন, পদ্মাসেতু প্রজেক্টে দায়িত্বরত একজন কর্মকর্তা সেতু নির্মাণে অতিরিক্ত লোকবল লাগবে এমন সাক্ষাতকার দিয়েছিলেন। সেটাকে বিকৃত করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে কয়েকজন ‘ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শী’ প্রবাসী ছেলে ধরা ও পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা ও রক্ত লাগবে এমন গুজব ছড়ায়। তিনি বলেন, যারা এসব গুজব ছড়িয়েছে তাদের সনাক্ত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার বলেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ছেলেধরা সন্দেহে পিটুনির ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৩টি মামলায় মোট ৭ জন গ্রেফতার হয়েছে। এরমধ্যে গত ২০ জুলাই সীতাকুন্ড উপজেলার ফৌজদার হাটে ছেলেধরা সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে মারধর করার ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।

২২ জুলাই বাঁশখালীর ইলশা গ্রামে ছেলে ধরা সন্দেহে তিন ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনায় ছয়জনের নামে মামলা হয়। এ মামলায় গ্রেফতার হয় দুজন। একই দিন বানীগ্রামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনায় দায়ের হওয়া আরো এক মামলায় গ্রেফতার হয় দুজন। এছাড়া সাতকানিয়ার কেরানী হাটে পৃথক আরো একটি ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করার তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার।

সংবাদ সম্মেলনে গুজব রটনাকারীদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ছেলে ধরা বা কল্লা কাটা গুজ ছড়িয়ে যারা গণপিটুনিতে অংশ নেবে ও যারা তামাশা দেখে ভিডিও ধারণ করবে এবং এসব গুজবের নিউজ ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার হলে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২০১৩-১৪ সালে দেশে পেট্রোল বোমা, ২০১৬-১৭ সালে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সফল হতে না পেরে ছেলেধরা গুজব রটানো হচ্ছে বলে মনে করেন জেলা পুলিশ সুপার। তিনি গুজব ঠেকাতে বিভিন্ন ধরনের প্রচারের পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে লিফলেটও বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানান নূরে আলম মিনা।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) একেএম এমরান ভূঁঞা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মশিউদ্দৌলা রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আফরুজুল হক টুটুল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ উপস্থিত ছিলেন।

বিএম/রাজীব..