রিফাত হত্যা মামলা পিবিআই/সিআইডিতে স্থানান্তর করতে রিট

বরগুনায় রিফাত শরীফ প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা মামলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বা অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অধীনে তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

রিট আবেদনে রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দকা মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অবৈধ এবং ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করা হয়েছে। রিটে বিবাদী করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, পুলিশের আইজি, বরিশালের ডিআইজি, বরগুনার পুলিশ সুপার সহ সাতজনকে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন।

রিটে বলা হয়, স্থানীয় পুলিশ এমন স্পর্শকাতর মামলার তদন্তের কাজে অভিজ্ঞ নয়। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা সহ বড় ধরনের মামলা সিআইডি তদন্ত করেছে। সিআইডির কাজ হলো তদন্ত করা। কিন্তু স্থানীয় পুলিশের কাজ আসামিদের গ্রেফতার করা। আর ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলা পিবিআই তদন্ত করেও কম সময়ে অভিযোগপত্র দিয়েছে। সুতরাং ন্যায় বিচারের স্বার্থে পিবিআই বা সিআইডি অধীনে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক।

রিটে আরও বলা হয়, রিফাত হত্যা মামলায় মিন্নি একমাত্র প্রত্যক্ষ সাক্ষী। অন্যদিকে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। এ অবস্থায় প্রত্যক্ষ সাক্ষীকে আসামি করলে প্রকৃত বিচার হবে না। সাক্ষীর জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় নেওয়া যাবে। কিন্তু আসামি হিসেবে জবানবন্দি নেওয়া যাবে না। অথচ মিন্নিকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়। তাই মিন্নির গ্রেফতার ও ১৬৪ ধারার জবানবন্দি অবৈধ হবে।

রিটে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগীয় তদন্ত ছাড়া রিফাত হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব নয়। তাই ১৯৫৬ সালের তদন্ত আইন অনুযায়ী বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান রিট আবেদনকারী।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকাল ১০টায় বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাতকে প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করেন নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজীসহ অন্যান্যরা। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পাঁচজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার মূল আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। মামলার প্রধান সাক্ষী রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।

বিএম/এমআর