৭০ শতাংশ রোগী জানে না তিনি হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত-ডা. আল মাহমুদ

চট্টগ্রাম মেইল : চমেক হাসপাতালের লিভার রোগ বিশেষজ্ঞ হেপাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার ৫ দশমিক ১ শতাংশ জনগোষ্ঠী হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত। এরমধ্যে ৫৭ লাখ পুরুষ ও ২৮ লাখ নারী।

তবে হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত প্রায় ৭০ শতাংশ রোগীই জানে না যে তাঁরা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। তাই অজানা এ রোগটি সম্পর্কে জানতে মাসে বা তিনমাসে অন্তত একবার করে প্রত্যেককে রক্ত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সচেতনতার কোন বিকল্প নেই।

২৮ জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসকে সামনে রেখে হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সহযোগিতায় আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি উপস্থিত সকলের উদ্দ্যেশে এসব কথা বলেন।

আজ শনিবার সকালে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে ‘২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে হেপাটাইটিস বি নির্মূলে অজানা রোগীদের খুঁজে বের করি’ শীর্ষক হেপাটাইটিস রোগী সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসকে সামনে রেখে গত টানা তিনবছর ধরে ব্যাক্তিগত উদ্দ্যেগেই হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে ব্যাতিক্রমী এ সমাবেশের আয়োজন করে আসছেন ডাক্তার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ।

“আসুন খুঁজি অজানা রোগী” এ প্রতিপাদ্যে এবারের আয়োজিত সমাবেশে তিনি আরো বলেন, ছোঁয়াছুঁয়ির মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায় না। অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন, ডায়ালাইসিস, অনিরাপদ দৈহিক সম্পর্ক, সিরিঞ্জের মাধ্যমে মাদক নেওয়ায় মূলত এ ভাইরাসটি ছড়িয়ে থাকে।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের এক গবেষনায় দেখা যায়, প্রতি বছর ২০ হাজার মানুষ হেপাটাইটিস বি ভাইরাস জনিত রোগে মারা যায় এবং ১০ শতাংশ লোকের এই রোগের চিকিৎসা ব্যয় হয় প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রায় ৫০ শতাংশ, যা আগে ছিল ২৭ শতাংশ। ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী প্রজননক্ষম ১৮ লাখ নারী হেপাটাইটিস বি রোগে আক্রান্ত।

গবেষনায় দেখা যায়, রোগটি মায়েদের মাধ্যমেই বেশি ছড়ায়। এছাড়া ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী ২৫ লাখ চাকরিপ্রার্থী ও কর্মক্ষম তরুণ হেপাটাইটিস বি রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে চাকরির প্রাপ্তিতে বাধা পড়ে।

তিনি বলেন, পাঁচ ধরনের হেপাটাইটিসের মধ্যে বি এবং সি প্রাণঘাতী। এ এবং ই ছড়ায় খাবারের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে টিকা, চিকিৎসার পাশাপাশি সচেতনতাও খুব দরকার। জন্মের ২৪ ঘণ্টা বা যত দ্রুত সম্ভব হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত মায়ের শিশুকে অবশ্যই ইমিউনোগ্লোবিউলিন টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে ডাক্তার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, টিকা দেওয়ার ফলে পরবর্তী প্রজন্ম হেপাটাইটিস বি মুক্ত থাকবে। তাছাড়া শিশুকে কোনোভাবেই বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ না করার কথাও জানিয়েছে এ চিকিৎসক।

বলেন, প্রায় চার লাখ শিশু হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত। যত কম বয়সে শিশুরা হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হবে, তত বেশি জটিলতা তৈরি হবে। এ থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় টিকা দেওয়া।

ডাক্তার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, যেকোনো রোগ চার ধাপে প্রতিরোধ করা হয়। শুরুতেই ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হয়। তবে অনেক রোগীকে এমন পর্যায়ে চিকিৎসকের কাছে আনা হয় যখন চিকিৎসকের আর কিছুই করার থাকেনা। সেক্ষেত্রে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করলে ভালো ফল মিলবে এমন লক্ষ্য উদ্দ্যেশ্য নিয়েই বিগত টানা তিনবছর এ আয়োজন করে আসছি।

বিএম/রাজীব সেন..