রাউজান স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডেঙ্গু রোগী নেই, সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ

রাউজান প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের রাউজানের সরকারি ও বেসকারি হাসপাতালগুলোতে এখনো পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত কোন রোগীর খবর পাওয়া যায়নি। এরপরও হাসপাতালের কিছু অব্যবস্থাপনায় আতংক বিরাজ করছে রোগীদের মাঝে। রাউজান উপজেলার বৃহৎ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে এমনিতে রয়েছে চিকিৎসক ও জনবল সংকট। তার উপরে গত সাত মাস ধরে একজন চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকায় ভেঙ্গে পড়েছে স্বাস্থ্য সেবা।

রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য হাসপাতালের সুত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু ভাইরাস জনিত রোগে আক্রান্ত কোন রোগী এখনো উপজেলার কোন হাসপাতালে ভর্র্তি হয়নি। গত কয়েক দিন হাসপাতালে ৫/৬ জন জ্বর হওয়া রোগী হাসপাতালে আসলে তাদের ডেঙ্গু পরীক্ষা করার পর ফলাফলে ডেঙ্গু রোগের কোন অস্থিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে তাদের জ্বর সাধারণত সভাবিক জ্বর। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য হাসপাতালের পরিদর্শক ড. মনোয়ার হোসেন চোধুরী।

তবে সরজমিনে দেখা যায়, রাউজান হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় সেখানে মশার উৎপাত লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়াও হাসপাতালে ব্যবহারিত সেফটি টাংকি থেকে মল নির্গত হয়ে হাসপাতালের আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ছে, এতে দুষিত হচ্ছে হাসপাতালের পরিবেশ, এর জন্য রোগীর মধ্যে কিছুটা আতংক লক্ষ্য করা গেছে। তাছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটে রোগীরা তাদের প্রাপ্ত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ফলে অসুস্থ অবস্থায় অনেক রোগীকে অন্যত্র বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, ড: মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, নালায় জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গু মশার বিস্তার হয়না। তবে হাসপাতাল থেতে রাস্তা সড়কটি উঁচু হওয়াতে হাসপাতালের কিছু কিছু স্থানে পানি জমে থাকে। আগে বৃষ্টির পানি গুলো বিভিন্ন স্থান দিয়ে চলে যেত, কিন্তু হাসপাতালের পাশের বড় সড়কটি অনেক উঁচু আর কিছু বহুতল ভবন নির্মিত হওয়ায় পানি চলাচলে কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হয়।

তিনি আরো বলেন, রাউজানের এমপি ফজলে করিম চৌধুরী হাসপাতালের নানা রকম সমস্যা নিয়ে আন্তরিকভাবে অবগত আছেন। তিনি ইতিমধ্যে মন্ত্রনালয়ে একটি মেগা প্রকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। আগামী অর্থ বছরে এ মেগা প্রকল্পের বরাদ্দ করবে মন্ত্রনালয়।

তবে রাউজান উপজেলার বৃহৎ এ হাসপাতালে জনবল সংকট থাকার কথা তিনি অকপটে স্বীকার করে বলেন, এ সমস্যার সমাধান হলে হাসপাতালের সেবার মান আরো বৃদ্ধি পাবে। এদিকে জনবল সংকটের মাঝেও গত সাত মাস ধরে ডা. মুসলিমা আক্তার নামে এক চিকিৎসক হাসপাতালে অনুপস্থিত রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেন।

বিএম/এ হামজা/আরএস