চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত হত্যায় মাসুমের জামিন

    চট্টগ্রাম মেইল : চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুম জামিন পেয়েছেন। উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিন পেয়েছেন। তবে উচ্চ আদালতে কোনদিন ও কোন বেঞ্চে মাসুমের জামিন আদেশ হয়েছে সেটা তাৎক্ষণিক জানা যায়নি।

    রবিবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মো. কামরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, আজ আমরা উচ্চ আদালত থেকে দিদারুল আলম মাসুমের জামিন আদেশ পেয়েছি। এই আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর পর দিদারুল আলম মাসুম মুক্তি পাবেন।

    এদিকে রবিবার বিকেল ৪টা ৩৯ মিনিটে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ইয়াছির আরাফাত তার ফেসবুক টাইমলাইনে দিদারুল আলম মাসুমের কারামুক্তি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। এতে দুটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেন “এইমাত্র কারামুক্তি পেলেন দিদারুল আলম মাসুম ভাই”

    সূত্র জানায়, দিদারুল আলম মাসুমকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয় রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেক সোলায়মান সেলিম, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ইয়াছিন আরাফাত, চট্টগ্রাম সিটি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা পুলক খাস্তগীরসহ কয়েকজন নেতা চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাফটকের সামনে মাসুমকে শুভেচ্ছা জানায়। এরপর নগরীর লালখান বাজার মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন মাসুম।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. কামাল উদ্দিন বলেন, সুদীপ্ত হত্যায় দায়ের করা মামলায় দিদারুল আলম মাসুমের জামিন আদেশ আজ রবিবার সকালে পৌছে। হাইকোর্ট থেকে জামিনের আদেশ চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠালে সেখান থেকে কারাগারে পাঠানো হয় আদেশটি। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে বিকেলে দিদারুল আলম মাসুমকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে ২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর নগরের সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়ার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে সুদীপ্ত বিশ্বাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নগর ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মেঘনাথ বিশ্বাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় সাত-আটজনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে আদালতের নির্দেশে গত ফেব্রুয়ারিতে মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    গত ৪ আগস্ট রাতে রাজধানীর বনানী থেকে মাসুমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরপর ৫ আগস্ট দুপুরে কড়া নিরাপত্তায় তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হয়। সেদিন মাসুমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

    জানা যায়, দিদারুল আলম মাসুম চট্টগ্রামের লালখানবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। তিনি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার আলমবাজার গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে।  ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে লালখানবাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন তিনি। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এলে জেল খাটেন। জামিনে বেরিয়ে তিনি মধ্যপ্রাচ্য চলে যান। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তিনি দেশে ফেরেন।

    বিএম/আরএসপি..