রেফারী সমিতিতে জুয়া বন্ধের নির্দেশ মেয়রের, কড়া নজরদাড়িতে পুলিশ

    ঢাকায় অবৈধ জুয়ার আসর ও ক্যাসিনোগুলোতে গত ৩ দিনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়াশি অভিযানের ঢেউ আছড়ে পড়েছে চট্টগ্রামে। ইতিমধ্যে জুয়ার আসর গুটিয়ে গা ঢাকা দিতে শুরু করেছে অধিকাংশ জুয়ার আসর পরিচালনাকারী। আতঙ্কে আছে জুয়াড়িরা।

    সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রায় শতাধিক জুয়ার আসর রয়েছে।আধুনিক ক্লাব আছে ৩০ এর অধিক। সন্ধ্যার পরেই এসব জায়গায় জুয়া চলত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যোগসাজশে এসব নিয়ন্ত্রন করত স্থানীয় সরকারদলীয় প্রভাবশালীরা। জুয়ার পাশাপাশি এসব ক্লাবে অবাধে চলত মাদক বিকিকিনি ও অসামাজিক কর্মকান্ড।

    জানা গেছে, চট্টগ্রামে অভিজাত ক্লাবগুলোতে প্রতিদিন জুয়ার বোর্ড থেকে আয় হয় লক্ষাধিক টাকা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জ্ঞাতসারেই এসব ক্লাব ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে বাসা-বাড়ি ও সামাজিক সংগঠনের কক্ষে বসে জুয়ার আসর। নামি-দামি হোটেলেও চলে জুয়া খেলা। ক্লাবগুলোতে জুয়ার বোর্ড বসিয়ে সাপ্তাহিক, মাসিক বা দৈনিক ভিত্তিতে টাকা তোলা হয়। এসব টাকা যায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও ক্লাব পরিচালনায় জড়িত কর্মকর্তাদের পকেটে। একইসঙ্গে চলে নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিকিকিনি ও অসামাজিক কার্যকলাপ।

    সূত্রমতে, চট্টগ্রামের প্রায় সব অনুমোদিত বারের আড়ালে চলে অবৈধ জুয়া ব্যবসা। ঢাকায় যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়াং মেন্স ক্লাব সহ কয়েকটি ক্যাসিনোতে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর চট্টগ্রামে তৎপর হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল কোতোয়ালীর পুলিশ প্লাজায় একটি জুয়ার আসর বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। দু দিনের মধ্যে চট্টগ্রামের রেফারি সমিতিতে চলা জুয়া বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন।

    চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, অনুমোদিত এবং অনুমোদনহীন সবগুলো বার ও ক্লাবে জুয়ার আসর বন্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। এর নেপথ্যে যত বড় প্রভাবশালী থাকুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।