লক্ষ অভিযান চালিয়েও, দুর্নীতি দুর্বৃত্তায়ন অপকর্ম শেষ হবে না:আমির খসরু

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট :শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে এক মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি যদি পর্যালোচনা করা হয় তাহলে স্পষ্ট হবে যে, আজকে বাংলাদেশের কোনও সাধারণ মানুষের ব্যবসা করার সুযোগ নেই। কোনও সাধারণ মানুষের চাকরি পাওয়ার সুযোগ নেই। এটা পরিপূর্ণভাবে ‘আওয়ামী অর্থনীতিতে’ পরিণত হয়েছে। একটি দলীয় অর্থনীতি প্রণীত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা বাইরে চলে যাচ্ছে। এর বড় অংশ হচ্ছে দুর্নীতির টাকা। আর ছোট্ট একটি অংশ হচ্ছে যারা বাংলাদেশে ব্যবসা করে তাদের আর কোনও সুযোগ নেই। এখানে লুটপাটের কারণে ব্যবসা করার সুযোগ নেই। এজন্য তারা টাকা নিয়ে যাচ্ছে। যার বেশিরভাগ দুর্নীতির টাকা।’

খসরু বলেন, ‘অবৈধ সরকার, অবৈধ সংসদ যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয় তখন ক্যাসিনো চাঁদাবাজ মহাপ্রভুরা টাকা বিদেশে পাচার করে। গুম-খুন আর  হাজারও মতো মেধাবী ছাত্রকে হত্যার বিচার চাইলে বলে- এগুলো কোনও বিচারের আওতায় আসার সুযোগ নাই। এর আগে এরকম যে হত্যাগুলো হয়েছে যে রায়গুলো দেয়া হয়েছে, সকলেই খালাস পেয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘ক্যাসিনো অভিযানের পরে অনেক সাংবাদিক, দলের অনেক লোকজন আমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে যে, ‘আপনি কি মনে করেন সরকার সত্যি সত্যি এই অভিযান চালাচ্ছে? আর চালালে কেন চালাচ্ছে, এই অভিযান কারা চালাচ্ছে, আসলে কি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চালাচ্ছে? এসব প্রশ্ন যে দেশে উঠতে পারে সেখানে তো দেশের অবস্থা সবার কাছেই স্পষ্ট ও পরিষ্কার হয়।’

খসরু  বলেন, ‘আসলে ঘটনা হচ্ছে, এখানে এত বড় অংকের লেনদেন এগুলো সাধারণ মানুষ কল্পনাও করতে পারে না। এই লেনদেনের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা সমস্যা হয়ে যায়। যখন সমস্যা হয়ে যায় একজন আরেকজনকে মেরে ফেলে। এখানে একজন আরেকজনকে ধরিয়ে দিচ্ছে। যারা ধরিয়ে দিচ্ছে তারা তো জানে কে কোথায় কী করছে? এ ধরনের লক্ষ লক্ষ নাটুকে অভিযান চালালেও বাংলাদেশে দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়নের চিত্র শেষ হবে না।’

খসরু বলেন, ‘লক্ষ অভিযান চালিয়েও এই দুর্নীতি দুর্বৃত্তায়ন অপকর্ম শেষ হবে না। যারা অন্যায় অবিচার করছেন তাদের জন্য মাঠ খোলা আছে। কারণ যে দেশের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবাই একই কাজে ব্যস্ত তারা আবার অন্যের কাজে কীভাবে বাধা দেবে। বিশেষ করে একটি অনির্বাচিত সরকার যেখানে দেশ পরিচালনা করে, একটি অনির্বাচিত সংসদ যেখানে আইন পরিচালনা করে সেখানে তো আগাগোড়া সবকিছুই অবৈধ।’

মানববন্ধনে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির সহ-তথ্যবিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক নেতা কাদের গনি চৌধুরী, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার ও কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ বক্তব্য দেন।