কুবির ভর্তি অনিয়ম তদন্ত চলাকালীন ইউনিট প্রধানের বক্তব্যে বিভ্রান্তির আশঙ্কা!

মাহফুজ কিশোর,কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর নাম আসার ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এদিকে তদন্ত চলাকালীন সময়ে তদন্ত কমিটির সদস্য না হয়েও এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন ঐ ইউনিটের ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল। যেখানে তিনি বলেছেন- ‘এক্ষেত্রে কোনো জালিয়াতি হয়নি, ভুল বৃত্ত ভরাট করেছেন আরেক ভর্তিচ্ছু।’

এ নিয়ে বিভ্রান্তির আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সোমবার কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের সংবাদে ‘জালিয়াতি নয়, ভুল বৃত্ত ভরাট করেছেন আরেক ভর্তিচ্ছু’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায় ড. অধ্যাপক মাসুদা কামাল তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, ‘এটি কোনো জালিয়াতি নয়; বরং একজন পরীক্ষার্থীর ভুলে এমনটি হয়েছে। আর বিষয়টি সম্পর্কে উপাচার্যকে আমরা পূর্বেই অবগত করেছি।’ অথচ গত ৩০ নভেম্বর ‘অনুপস্থিত শিক্ষার্থী মেধাতালিকায় ১২ তম’ শীর্ষক সংবাদের প্রেক্ষিতে তাঁকেই ফোন করা হলে তিনি উপাচার্যকে অবগত করার বিষয়টি কিংবা এ সম্পর্কিত কোনো বক্তব্য গণমাধ্যমকে জানাননি।

নিজ সংশ্লিষ্ট ইউনিট নিয়ে তদন্ত চলাকালীন ঐ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে পারেন কিনা এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ড. মাসুদা কামাল বলেন, ‘আমার জায়গা থেকে আমি যে ফ্যাক্ট (ঘটনা) জেনেছি সে হিসেবে বক্তব্য দিতেই পারি। তদন্ত কমিটি তাদের কথা তারা বলবে।’ অন্যদিকে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘আমরা এখনো এটা জালিয়াতি না অন্য কোনো কিছু এ ব্যাপারে এ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেইনি। তদন্ত চলাকালীন গণমাধ্যমে মন্তব্য করা সমীচীন নয়।’

একইসুরে কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. সৈয়দুর রহমান জানান, ‘আমরা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগ পর্যন্ত কারও মন্তব্য সমীচীন মনে করি না। এতে বিভ্রান্তির যে সম্ভাবনা থাকে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।’ এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের জানান, ‘তদন্ত যেহেতু চলছে তাই আমি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই।’

উল্লেখ্য, গত ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথমবর্ষের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ২০৬০৫০ রোলধারী সাজ্জাতুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থীকে উপস্থিতির তালিকায় অনুপস্থিত দেখানো হয়। তবে ১২ নভেম্বর প্রকাশিত ‘বি’ ইউনিটের ফলাফলে দেখা যায়, ২০৬০৫০ রোল নম্বরধারী সাজ্জাতুল ইসলাম ‘বি’ ইউনিট (মানবিক) এর মেধাতালিকায় ১২তম স্থান অধিকার করেছেন। ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি স্থগিত করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।