চট্টগ্রামে সুজনের উদ্যোগে পেঁয়াজবিহীন খাবার বিতরণ

চট্টগ্রাম মেইলঃ অব্যাহতভাবে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ‘‘পেঁয়াজ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঘৃণার আগুন ছড়িয়ে দাও” শীর্ষক প্রতিবাদী কর্মসূচী ও পেঁয়াজ সন্ত্রাসীদের কুশপুত্তলিকায় ঘৃণা প্রদর্শনের বিনিময়ে পেঁয়াজ বিহীন রান্না পরিবেশন করা হয়েছে।

আজ ৩রা ডিসেম্বর ২০১৯ইং মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় নগরীর প্রেস ক্লাব সংলগ্ন চত্বরে উক্ত অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন।

পেঁয়াজ মজুদকারীদের মুখে প্রতীকি ঝাড়ুপেটার মাধ্যমে ঘৃণা প্রদর্শন

এ সময় সমবেত নগরবাসীর উদ্দেশ্যে জনাব সুজন বলেন, পেঁয়াজ রান্নার একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। কিন্তু কি কারণে মাসের পর মাস এভাবে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি করা হবে তা আমাদের বোধগম্য নয়। ইতিমধ্যে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা মোতাবেক ‘পেঁয়াজ ন খাইয়্যুম পেঁয়াজ ন কিইন্যুম’ শীর্ষক সচেতনতা সভা করেছি এবং জনগনকে পেঁয়াজ বিহীন খাবার রান্না করার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। জনগনও এতে ব্যাপক সাড়া দিয়েছে।

বক্তব্য রাখছেন- জনাব খোরশেদ আলম সুজন

তারপরও পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ জনগন উদ্বিগ্ন। আমরা মনে করি সমাজ এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে লুকিয়ে থাকা স্বার্থান্বেষী মহল যারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযানকে বাঁধাগ্রস্ত করতে চায় তারা পরিকল্পিতভাবে এ মূল্য বৃদ্ধির সাথে জড়িত। ইতিমধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা পেঁয়াজ কারবারির সাথে জড়িত বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করেছে তারপরও কি কারণে তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না তা জনগন জানতে চায়। এদের আশ্রয়দাতা কারা তা জনসন্মূখে প্রকাশ করা আজ সময়ের দাবী।

সরকারের কতিপয় মন্ত্রীর অতিকথনও পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে উস্কানি দিচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন এখনই যদি দ্রব্যমূল্য সন্ত্রাসীদের দমন করা না যায় তাহলে আগামী রমজান মাসে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে আমরা আশংকা প্রকাশ করছি। তিনি দ্রব্যমূল্য সন্ত্রাসীদের মুখোশ খুলে দেওয়ার জন্য সরকারের নিকট বিনীত অনুরোধ জানান। তিনি আরো বলেন আমরা আশংকাজনক হারে লক্ষ্য করছি ভোগ্যপণ্যের গুজব রটিয়ে চক্রান্তকারীরা সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এরা দেশ ও জাতির শত্রæ। এরা জনগনের দুশমন। এদের বিরুদ্ধে সবাইকে এক হওয়ার জন্য উদাত্ত আহবান জানান জনাব সুজন।

সভার বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন বলেন পেঁয়াজকে কেন্দ্র যে সিন্ডিকেট মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ধুলিস্যাৎ করে দিতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আমরা চট্টগ্রামের নারী সমাজ একতাবদ্ধ। আমরা পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত সবার ঘরে ঘরে পেঁয়াজ বিহীন রান্না করবো। পেঁয়াজসহ সকল দ্রব্যমূল্যের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে থেকে আমাদের প্রতিবাদ জানিয়ে যাবো।

নাগরিক উদ্যোগের উপদেষ্ঠা হাজী মোঃ ইলিয়াছের সভাপতিত্বে এবং সমন্বয়কারী মোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মমতাজ খাঁন, মহিলা কাউন্সিলর ওয়াসা বোর্ড মেম্বার আফরোজা কালাম, শারমিন সুলতানা ফারুক, মিথুন বড়–য়া, বেসরকারি কারা পরিদর্শক আজিজুর রহমান আজিজ প্রমূখ।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মসিউর রহমান চৌধুরী, আব্দুর রহমান মিয়া, নাগরিক উদ্যোগের সদস্য সচিব হাজী মোঃ হোসেন, আব্দুর রহমান মিয়া, সাইদুর রহমান চৌধুরী, মোঃ নিজাম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক শওকত হোসাইন, ফরহান আহমেদ, মোঃ সালাউদ্দিন, আবুল কালাম বিএসসি, আবুল হাসেম বাবুল, মিসেস তাহমিনা বেগম, শফিউল আজম বাহার, মহিউদ্দিন শাহ, মাঈনুল হক লিমন, এনামুল হক মিলন, জাহেদ আহমদ চৌধুরী, এ এস এম জাহিদ হোসেন, আবুল হাসান সৈকত, কাউন্সিলর নীলু নাগ, ডা. অঞ্জন দাশ, অধ্যক্ষ কামরুল হোসেন, নাজিম উদ্দিন, সমীর মহাজন লিটন, সাইফুল্লাহ আনছারী, মোঃ মুরাদ, ফরহাদুল ইসলাম রিন্টু, রকিবুল আলম সাজ্জী, রাজীব হাসান রাজন, অনির্বান দাশ বাবু, শেখ মামুনুর রশীদ, ফারজানা মুন্নী, সোলেমান সুমন, শাহনেওয়াজ রাজীব, পাভেল ইসলাম, নগর ছাত্রলীগ সভাপতি এম ইমরান আহমেদ ইমু, তালেব আলী, নাঈম রনি, জয়নাল উদ্দিন জাহেদ, আফম সাইফুদ্দীন, নোমান চৌধুরী, সুজন বর্মন, ইরফানুল আলম জিকু, মিনহাজুল আবেদীন সানি, খোরশেদ আলম, হাসানুল আলম সবুজ, আবু তারেক রনি, এহসানুল কবির ববি, আবু সালেহ রিমন, শেখর দাশ, মোঃ ওয়াসিম, বিকাশ দাশ, আব্দুল জাহেদ মনি, সুভাষ মল্লিক সবুজ, মোঃ তাইফুল খাঁন, রাকিবুল হাসান, ফয়সাল সাব্বির, ইবনে জামান ডায়মন্ড, মীর মোঃ ফয়সাল, আকবর হোসেন রাজন, মিজানুর রহমান প্রমূখ।

প্রতিবাদী সভা শেষে পেঁয়াজ বিহীন মুরগীর মাংস, মাছ, পালং শাক, লাল শাক, নুডুলস, ছোলা, পাকুড়া ও পিয়াজুসহ নানান পদের রান্না পরিবেশন করা হয়। চলাচলের উৎসুক সাধারন জনগন স্বতস্ফুর্তভাবে লাইন ধরে পেঁয়াজ বিহীন খাবার গ্রহণ করেন এবং পেঁয়াজ বিহীন খাবারও যে এতো সুস্বাদুভাবে পরিবেশন করা যায় সেজন্য উদ্যোক্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ দিয়ে তারাও বাসায় পেঁয়াজ বিহীন রান্না করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।