আসামে নাগরিকত্ব বিলবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের গুলি, নিহত ৩

আসামে

ভারতের আসামের গুয়াহাটিতে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের মিছিলে গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের গুলিতে এখন পর্যন্ত ৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরো অনেকে।

ভারতের পার্লামেন্টে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন বিল পাস হয় বুধবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে। এ বিলের প্রতিবাদে কারফিউ ভেঙে বৃহস্পতিবার রাস্তায় নেমে আসে আসামের গুয়াহাটির হাজার হাজার মানুষ। রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এ সময় তাদেরকে দমনের জন্য পুলিশ গুলি চালায়।

এর আগে ভারত সরকার সকাল থেকেই আসামের ১০টি জেলায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়। ৪টি জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ এখনো চলছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে আসাম এবং ত্রিপুরার মধ্যকার রেল যোগাযোগ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, বুধবার রাতে ভারতের রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর দেশটির উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যে কারফিউ জারি করা হয়। এ বিলের প্রতিবাদে আসামের অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু) এবং কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি (কেএমএসএস) বিক্ষোভের ডাক দেয়।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে বুধবারই জ্বলে ওঠে আসাম। সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন গতকাল থেকে। আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছে অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু) এবং কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি (কেএমএসএস)। সাধারণ মানুষকে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছে তারা। তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কারফিউ উপেক্ষা করে রাজপথ দখলে নিয়েছে হাজার হাজার মানুষ।

অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে। বেলা ১১টায় গুয়াহাটির লতাশীল ময়দানে জমায়েতের ঘোষণা দেয়া হয়।। এ জন্য সবাইকে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নামার আহ্বান জানায় তারা।

বিক্ষোভ থামাতে রাজ্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। গুয়াহাটি পুলিশের প্রধানকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে রাজ্যের অন্তত চারটি স্থানে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এসব এলাকায় সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া রাজ্যের উত্তরপূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে।

আসাম ও ত্রিপুরার মধ্যে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে; থমকে গেছে আকাশপথও। গুয়াগাটি ও দিব্রুগড়গামী বিভিন্ন সংস্থার বিমানের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামেশ্বর তেলিসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার বাসভবনে হামলা করেছে বিক্ষোভকারীরা।