খুমেক হাসপাতালে ১ জনের মৃত্যু, আতংকে হাসপাতাল ছাড়ছে রোগীরা

বাংলাদেশ মেইল ::

ঢাকায় করোনায় মৃত ব্যক্তির সঙ্গে একই হাসপাতালে থাকা এক রোগীর খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল ছেড়ে যাচ্ছেন সাধারন রোগীরা। ওই রোগীর লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাজারি ওয়ার্ডে থাকায় চিকিৎসক সহ নার্স ও কর্মচারীদের মধ্যে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের আতংক বিরাজ করছে।

এদিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তে সন্দেহে নিহত ব্যাক্তির নমুনা সংগ্রহের জন্য খুলনায় এসেছে আইডিসিআর এর টিম।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এক ব্যক্তি। তার সঙ্গে একই হাসপাতালে পাশাপাশি বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন খুলনার মোস্তাহিদুর রহমান (৪৫)। পরে তাকে খুলনায় আনা হয়। বুধবার ভর্তি করা হয় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে। বৃহস্পতিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। তিনি খুলনা মহানগরীর হেলাতলা এলাকার মৃত সাঈদুর রহমানের ছেলে।

খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ টি এম মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, থাইরয়েড সার্জারিতে ইনফেকশন হওয়ার কারণে এখানে আসেন তিনি। তাই তাকে স্বাভাবিকভাবেই হাসপাতালের সার্জারি ইউনিট-২ এ ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তখন এসব তথ্য প্রকাশ পায়। এরপর ওই রোগীকে ফাঁকা ওয়ার্ডের এক কোনে রেখে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু দুপুর দেড়টার দিকে তিনি মারা যান। এরপর ওই হাসপাতাল থেকে সব রোগীকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং নিজ নিজ বাসায় কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। সাধারন রোগীরাও হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতে শুরু করে। তার লাশ হাসপাতালেই রয়েছে।
ডাঃ মঞ্জুর মোর্শেদ আরো জানান, ওই রোগীর জ্বর ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ার পর চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা সংক্রান্ত পূর্ববর্তী তথ্য নেন। এই হাসপাতালে আসার আগে ওই রোগী ঢাকার মডার্ন হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। একই আইসিইউতে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্ত একজন রোগী মারা গিয়েছিল। কিন্তু ওই রোগী এখানে ভর্তির সময় সেই তথ্য গোপন করেন। তা না হলে তাকে করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হতো। তিনি বলেন, ওই রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া ১৫-২০ জন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হচ্ছে। ৯০ শতাংশের সন্দেহ ওই রোগী করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। নিহত ব্যাক্তির নমুনা সংগ্রহের জন্য ঢাকায় আইইডিসিআরে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও জানান ডাঃ মঞ্জুর মোর্শেদ।