ব্যবসায়ী সমিতির ব্যবস্থাপনায়
নাজিরহাটে প্রকাশ্যে ত্রান বিতরন, করোনা ঝুঁকি তোয়াক্কা না করে হাজার মানুষের সমাগম

বাংলাদেশ মেইল ::

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট বাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির ত্রান বিতরন অনুষ্ঠানে জড়ো হয়েছিলেন অন্তত ৪/৫ হাজার মানুষ৷ সরকার ঘোষিত জরুরী ছুটিতে জনসমাগম করার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও শনিবার বিকেল ৩ টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত ঝংকার মোড়ে ছিল উৎসুক জনতার ভীড়৷

এসময় উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আবু তৈয়ব,  নাজিরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাসির উদ্দিন,  সাধারন সম্পাদক শাহজামাল, নাজিরহাট পৌরসভার মেয়র সিরাজুদ্দৌলা।

ত্রান নিতে আসা জনগোষ্ঠীর কাউকেই ব্যাক্তিগত নিরাপত্তায় কোন মাস্ক কিংবা গ্লাভস  পরিধান করতে দেখা যায় নি। এসময় জনতার ভীড়ে নির্বাকার  দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় খোদ ফটিকছড়ি থানার ওসি বাবুল আকতারকে।

করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে দেশের বিভিন্ন জেলায় দোকানের সামনে কেনাকাটার সময় ক্রেতাদের নিরাপদ দুরত্বে রাখতে বৃত্তবন্দি করা হচ্ছে৷ কিন্তু নাজিরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির এমন ত্রান বিতরনের দৃশ্যকে ব্যাক্তিগত প্রদর্শনী হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। জানতে চাইলে ফটিকছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল আরেফিন জানান,  সরকারের পক্ষ থেকে এলাকার দিনমজুর- গরীরদের যারা  সরকারের নিয়মিত সাহায্যপ্রাপ্তদের তালিকায় নেই,  তাদেরকে ঘরে ঘরে গিয়ে সাহায্য পৌছে দেবার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে । দেশের দুঃসময়ে এটা সরকারেরই দায়িত্ব।  এসময় অতি উৎসাহী হয়ে কেউ জনসমাগম করে ত্রান দেওয়াটা আইনের বরখেলাপ। এটা জনস্বাস্থ্যর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ‘

বিষয়ে জানতে স্থানীয় কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলীকে ফোন দেয়া হলে তিনি জানান,  ত্রান বিতরন অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তবে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পাঠানো ত্রান সংগ্রহ করতে ঝংকার মোড়ে একই সময় অবস্থান করছিলেন। যা পরবর্তিতে গরীব জনগোষ্ঠীর ঘরে ঘরে গিয়ে নিয়ম অনুযায়ী পৌছে দেয়া হবে। তিনি বলেন,  এভাবে জনসমাগম ঘটিয়ে ত্রান দেবার পক্ষে নন তিনি।

এদিকে স্থানীয়রা জানান প্রতিজনকে তিন কেজি চাল,  এক কেজি আলু বিতরন করতে গিয়ে লংকাকান্ড ঘটিয়েছেন নাজিরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতি। এ বিষয়ে জানতে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল সংযোগ কেটে দেন।