১৯৮১ সালের ১৭ ই মেঃ ‘হাসিনা প্রতিরোধ কমিটি ও বালির বাঁধ’

১৯৮১ সালের ১৭ ই মে !
আজ থেকে ৪০ বছর আগের একটি দিন। ঢাকায় চলছিলো দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। সারাদেশ তাকিয়ে আছে কখন বিকেল হবে। ৭৫ এর ১৫ই আগষ্টের পর বঙ্গবন্ধুর কোনো উত্তরসূরী হিসেবে দেশে আসছেন বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে শেখ হাসিনা। চারদিকে উৎকন্ঠা। একদিকে চলছে বাংলার আপামর জনতার বঙ্গতনয়াকে বরণ করে নেয়ার প্রস্তুতি অন্যদিকে তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে চলছে রণপ্রস্তুতি। গঠন করা হলো ‘ শেখ হাসিনা প্রতিরোধ কমিটি ‘, উদ্দেশ্য শেখ হাসিনাকে বাংলার মাটিতে প্রবেশ করতে দেয়া হবে নাহ।
দুপুর হওয়ার আগেই গণজোয়ারে বালির বাঁধের মত ভেস্তে গেল ‘হাসিনা প্রতিরোধ কমিটি’। তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঢাকার সকল রাজপথের ঠিকানা মিলিত হলো এক মোহনায়। মিলনস্থল তৎকালীন ঢাকা ‘ কুর্মিটোলা বিমানবন্দর ‘। বিকেল হওয়ার আগেই লাখো মানুষের জনসমুদ্রে পরিণত বিমানবন্দর এলাকা। তুমুল দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সেসাথে নেতাকর্মীদের গগনবিদারী স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছিল ঢাকার আকাশ বাতাস। বিকেল সাড়ে চারটা। এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং বিমান ল্যান্ড করলো বাংলার মাটিতে। বিমান থেকে বেরিয়ে এলেন শেখ হাসিনা। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়েই দাড়ালেন লক্ষ জনতার সামনে। সাথে সাথেই জনসমুদ্রে শুরু হলো রক্তে আগুন ধরানো স্লোগান- ‘ শেখ হাসিনা ভয় নায়, আমরা আছি লাখো ভাই ; ঝড় বৃষ্টি আঁধার রাতে, আমরা আছি তোমার সাথে ‘। লাখো মানুষের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা সেসাথে পরিবারহীন দেশে আগমন সবকিছু মিলিয়ে খানিকটা বুকের মাঝে লুকিয়ে বেঁধে রাখা চাপা ঝড় ঠোঁট চেপে চোখের জলে বহিঃপ্রকাশ হলো বঙ্গকন্যার ! তা স্থায়ী হলো কয়েক মিনিট। রুমালে নিজের চোখ মুছে কান্নাভেজা কন্ঠে ঘোষণা দিলেন-
” আমি নেতা নই। সাধারণ মেয়ে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠার একজন কর্মী। বাংলার দুঃখী মানুষের প্রয়োজনে এ সংগ্রামে পিতার মতো অামিও জীবনদান করতে প্রস্তুত “।
শেখ হাসিনার এই দুই লাইনের বক্তব্যে বাংলার আপামর জনতা বুঝে নিলো পিতার মতই আদর্শের লড়াইয়ে এই মেয়ে আপোষহীন। একে দিয়েই সম্ভব হবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার হাতে তুলে দিলেন দলের পতাকা। শুরু হলো শেখ হাসিনার সংগ্রাম প্রতিষ্ঠার লড়াই, বাঙালি জাতিকে মাথা উচু করে বিশ্বদরবারে পরিচিত করার লড়াই। সেই ১৯৮১ সালের ১৭ ই মে থেকে আজকের দিনের ২০২০ সালের ১৭ ই মে। ক্ষমতার পালাবদলে ৪র্থ বারের মত শেখ হাসিনা আজ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী। সেদিনের ‘বঙ্গকন্যা’ থেকে আজ বিশ্ব দ্বারা স্বীকৃত ‘ মাদার অব হিউম্যানিটি ‘। এই এক শেখ হাসিনার হাত ধরেই ক্ষুধা,নিরক্ষরতা ও দারিদ্রমুক্ত দেশের পথে হাটছে বাংলাদেশ।

আজ প্রিয় আপার ৪০ তম স্বদেশপ্রত্যাবর্তন দিবস ! আপার চলার পথ প্রশস্থ রাখতে আমরা ছাত্রলীগ জেগে আছি ভ্যানগার্ড হয়ে ৫৬ হাজার বর্গমাইলে। পরিশেষে আপার সু-স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

লেখক- মোঃ তাইফুল খাঁন                                তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম কলেজ।