কে আগে ভ্যাকসিন ও ওষুধ দেবে?

বাংলাদেশ মেইল ::

চীন বিশ্বকে করোনা দিয়েছে। একে হারাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দৌড়ে আছে। কে আগে ভ্যাকসিন ও ওষুধ দেবে? ১৯ মে এএফপি সর্বশেষ খবর দিয়েছে, নতুন ওষুধের। পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দাবি করেছেন, তাদের ওষুধ করোনাকে বলবে, হল্ট। এটা খেলে আক্রান্ত ব্যক্তির দ্রুত করোনা সেরে যাবে। আবার সুস্থ কেউ আগাম খেলে তার মধ্যে ইমিউনিটি গড়ে উঠবে। অবশ্য এরকম খবর প্রায়ই ছাপা হচ্ছে। কবে কখন আসবে, সেটাই শুধু জানা যায় না।

চীন মরণব্যাধি করোনার উৎস বলেই পরিচিতি পেয়েছে।
করোনো ভাইরাস বিশ্বকে বদলেছে। কিন্তু দুই শক্তিধর দেশের নেতাকে অবশ্যই বদলায়নি। তারা যথারীতি মুখোমুখি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং অব্যাহতভাবে চাপানউতোর চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে ভ্যাকসিন নিয়ে দুই নেতার অগ্রাধিকারে একটা মৌলিক পরিবর্তন দেখছে বিশ্ববাসী। বিশেষ করে উন্নয়নশীল বিশ্বের অন্যতম রাজধানী ঢাকায় বসে পর্যবেক্ষকরা একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। ট্রাম্প বলেছেন, ভ্যাকসিন তৈরি হওয়া মাত্রই প্রতিটি মার্কিনের ঘরে পৌছে দেবেন। আর মি. শি সোমবার বলেছেন, ভ্যাকসিন তৈরি হওয়া মাত্রই উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পৌছে দেওয়া হবে। চীনা ভ্যাকসিন ‘গ্লোবাল পাবলিক গুডের’ জন্য।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট গত ১৭ মে এক প্রতিবেদনে বলেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানুয়ারি মাসের গোড়ায় ভ্যাকসিন বিষয়ে কাজ করতে শুরু করেছে। চীনের বিভিন্ন রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া বলছে যে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগ ঠিক নয় যে, চীন এটার উৎপত্তি ঘটিয়ে ছড়িয়েছে এবং তারা যথাসময়ে এসব তথ্য অবশিষ্ট বিশ্বের সঙ্গে শেয়ার করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র হিসেবে পরিচিত পিপলস ডেইলি। এই পত্রিকাটি শনিবার বলেছে ১১ জানুয়ারির আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নভেল করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি শুরু করেছিল, এটা কিসের প্রমাণ? ট্রাম্প এবং কতিপয় মার্কিন রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যম এ বিষয়ে মিথ্যাচার করে চলছেন।

গত সোমবারে জেনেভায় বসেছিল হেলথ এসেম্বলি। আর তখন একটা চাপের মধ্যে পড়েছিল চীন। এখন অবস্থা এমন যে চীনের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার পাল্টাপাল্টি হুমকি চলছে। হুমকির মধ্যে দাঁড়িয়েছে দুই পরাক্রমশালী দেশ ।

তবে গত বছরের শেষদকে চীনের উহানে চিহ্নিত হওয়া ওই ভাইরাসের উৎপত্তি কিভাবে ঘটেছিল, সে জন্য বাদুরকে দায়ী করা হয়। কিন্তু বাদুর থেকে সরাসরি মানব দেহে প্রবেশের আগে আরেকটা কোন প্রাণীর দেহে ঢুকেছিল বলে মনে করা হয়।

চীনা সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট পত্রিকাটি পর্যন্ত বলেছে যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে প্রথম এটি রিপোর্ট করার পর থেকে এটি প্রাণীদেহ থেকে মানব দেহে কি করে এর ট্রান্সমিশন ঘটেছিল, সেটা চার মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পর এখনও তা স্পষ্ট নয়।

তবে চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়ে পরস্পরকে দায়ী করে চলেছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার সহকর্মীরা গোড়া থেকেই অবশ্য বলে আসছেন যে উহানের ল্যাবরেটরী থেকে এই করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে । যদিও তার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও চ্যালেঞ্জ করে বলেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রমাণ সরবরাহ করতে পারেনি । অবশ্য কতিপয় মার্কিন রাজনীতিক বলে আসছেন যে, বেইজিংকে বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে । এবং এই ধারণার স্বপক্ষে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ।

তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন, এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনোকে কেন্দ্র করে যা কিছুই বলবেন, তার একটি লক্ষ্য থাকবে ভোটব্যাংক তুষ্ট করা। তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জিং নির্বাচন।

এবং তিনি নিশ্চিতভাবেই পরবর্তী রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়াতে যাচ্ছেন। তিনি তাই চীনকে উদ্দেশ্য করে যাই বলছেন, তার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র মানবজাতির মঙ্গল এবং তার নিরাপত্তার বিষয়টি নয়। তার সঙ্গে অবশ্যই ভোটের রাজনীতির প্রভাব আছে।
গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ গত ১১ জানুয়ারি প্রথম ভ্যাকসিন ডেভলপ করা শুরু করে দিয়েছিল । আর এটা তারা করেছিল অনলাইনে চীন ভাইরাসের জেনেটিক কোড আপলোড করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে।

ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, ১১ জানুয়ারি থেকে কি ঘটতে যাচ্ছিল তা অধিকাংশ মানুষ কখনো শোনেনি । এবং আমরা কোন কিছু না জেনে-শুনেই ভ্যাকসিনের কাজ শুরু করে দিয়েছিলাম । এটা কিসের বিরুদ্ধে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছিলাম, সে বিষয়ে আমাদেরও কোনো ধারণা ছিল না।

চীনা রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত মিডিয়া বলেছে, মি. ট্রাম্প বর্ণিত দিনক্ষণটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ দিনটি ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেদিন ঘোষণা করেছে যে, জেনেটিক সিকোয়েন্সের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেছে চীন। তার ঠিক একদিন আগের ঘটনা ।